রক্তিমা দাস: ২২ জানুয়ারি রাজ্যের সব ডিইওদের চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। সেই চিঠিতে বলা হয়েছিল, রাজ্যে চলা এস আই আর-এ এখনও পর্যন্ত কতজনকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে এবং  কতজনের নথি আপলোড করা হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরী করতে হবে ডিইওদের। সেই তালিকা কমিশনের ওয়েব পোর্টালেও আপলোড করতে বলা হয়েছিল। ২৬শে জানুয়ারির মধ্যে এই তালিকা আপলোড করার শেষ দিন ছিল। কিন্তু আদতে দেখা গেল ২৬ পেরিয়ে ২৭ জানুয়ারিতেও সেই তালিকা আপলোড হলো না। অফলাইনেও এই সংক্রান্ত কোনো তালিকা হাতে পায়নি কমিশন। সেই জায়গা থেকে প্রশ্ন উঠছে, এভাবে যদি নির্দিষ্ট সময়ে কাজগুলি শেষ না হতে থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কি এস আই আর প্রক্রিয়ার কাজ শেষ করা সম্ভব হবে! শুধু তাই নয়, পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে আদৌ কি তাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে!

Add Zee News as a Preferred Source

এসআইআর হেয়ারিঙে হয়রানির আরেকটা বড় উদাহরণ, সাদা থান পরে শুনানির লাইনে দাঁড়াতে হল সদ্য-বিধবাকে (Widow in SIR)! শ্রীরামপুরের (Serampore) বাসিন্দা পাপিয়া সাহা রায়। রবিবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর স্বামী মানব রায়ের। স্বামীর অকস্মাৎ মৃত্যুর শোক এখনও কাটিয়ে ওঠার সময়ই পাননি, অথচ, ছাড় নেই এসআইআর (SIR)-এর হাত থেকে! সাদা থান পরেই এসআইআর শুনানির লাইনে দাঁড়াতে হল শোকস্তব্ধ স্ত্রীকে! স্বামীর সঙ্গেই শুনানিতে আসার কথা ছিল তাঁর! বললেনও প্রৌঢ়া সেই কথা! কিন্তু হঠাৎ কোথা থেকে কী যে হয়ে গেল! তিনি চলে গেলেন! এই অবস্থাতেও আসতে হল, কারণ, আর অন্য দিন পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। প্রৌঢ়া বলেন, কাজ হয়ে গেলে তারপর শুনানিতে আসব, এটা তো আর আমার হাতে নেই!

আজ সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলায় হয়রানির অভিযোগে, বাংলায় এসআইআর-এ লজিক‍্যাল ডিসক্রিপেন্সিতে পদবি গোলযোগ নিয়ে শীর্ষ আদালতে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ। গৃহীত হল দ্রুত শুনানির আর্জি।

আদালতে আইনজীবীদের অভিযোগ, বাংলায় বিভ্রাট এখনও কমেনি। কারণ, বাংলায় পদবির উচ্চারণে তফাৎ হয়ে যাচ্ছে। যেমন- মুখার্জি, মুখোপাধ‍্যায়। আধার কার্ডও গ্রহণ করা হচ্ছে না। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর বেঞ্চে দৃষ্টি আকর্ষণ আইনজীবীর। আইএ-র শুনানি দ্রুত করার আবেদন। যাতে দৃশ্যতই বিরক্ত হন প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রতিদিন নতুন করে আইএ ফাইল হচ্ছে। আর্টিকেল ৩২-এর অধীনে সব সমস‍্যার সমাধান সম্ভব কি? আসলে এটা সমগ্র প্রক্রিয়াকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা।আইনজীবীর তরফে ফের আবেদন জানানো হলে আগামী সোমবার শুনানির জন‍্য তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।প্রসঙ্গত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা টাঙাতে হবে রাজ্যের গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসগুলিতে। শনিবার রাতেই লজিক্য়াল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা পাঠানো হয়েছে ইআরওদের কাছে। রাজ্যের প্রায় ১.২৫ কোটি ভোটারের নাম রয়েছে ওই লজিক্য়াল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায়।উপযুক্ত প্রমাণপত্র দিয়ে ওই অসংগতি মেটাতে হবে ভোটদাতাকে। কারা পড়ছেন ওই তালিকায়? এসআইআরের জন্য ২০০২ সালের ভোটার লিস্টকে প্রামাণ্য হিসেবে ধরেছে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকা অনুযায়ী যাদের নামের সঙ্গে বাবা-মায়ের নামের অমিল, বাবা-মায়ের নামের বানানে পার্থক্য বা ভোটারের সঙ্গে তাঁর বাবা-মায়ের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম বা ৫০ বছরের বেশি, তারা ওই তালিকায় পড়ে যাবেন। 

আরও পড়ুন: Nipah virus outbreak in India: বাংলার আউটব্রেকে বিশ্ব জুড়ে আতঙ্ক, এশিয়ায় ফিরছে অতিমারির কড়াকড়ি! শূন্য চিকিত্‍সার ভাইরাসে কোয়ারেনটাইনে অগুনতি…

আরও পড়ুন: Madras Highcourt on encroachment on public street: মানুষের জন্য তৈরি রাস্তাঘাট দখল করে যত্রতত্র ভগবান বসে গেলে বিপদ! এই জবরদখল মানা যায় না: হাইকোর্ট

 

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের AppFacebookWhatsapp ChannelX (Twitter)YoutubeInstagram পেজ-চ্যানেল)

 

 

 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version