অনুপ দাস: চক্ষুদান নাকি চোখ বিক্রি, এমন টানা পোড়েনের জেরে গ্রেফতার হন নদীয়ার কৃষ্ণনগর কোতয়ালী থানার এলাকা কালিরহাট সেনপুর এলাকার এক ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। এরকম ঘটনার পেছনে ছিল প্রতিবেশীদের অভিযোগ। তাঁদের সন্দেহ ছিল মৃত মায়ের চক্ষু বিক্রি করে দিয়েছেন অভিযুক্ত ছেলেরা। ওই অভিযোগের জেরে গ্রেফতার করা হয় মৃতার পুত্র সমাজককর্মী আমির চাঁদ সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য। এনিয়ে আজ সংবাদ সম্মেলন করে বিবৃতি দিল কোতয়ালি থানার পুলিস।

Add Zee News as a Preferred Source

চোখ বিক্রি করার অভিযোগে পরিবারের লোকজনকে গ্রেফতার নিয়ে কোতয়ালী থানার আইসি মঙ্গলবার বলেন, মৃত রাবিয়া বিবির চক্ষু দান নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা কোনো প্রপার ডকুমেন্ট দিতে পারেননি। আদালতে মৃতের এক ছেলে এবং মৃতের স্বামী বয়ান দিয়েছেন, চক্ষু দানের বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। চক্ষু দান করলে পরিবারের সকলের সম্মতি করা কাগজ থাকে। সেই কাগজ ছিল না। পুলিস ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে গ্রামবাসীরা ওদের বিরুদ্ধে। চক্ষু দান করতে গেলে যিনি চক্ষু দান করবেন তাঁর সম্মতিপত্র লাগে অথবা পরিবারের সবার সম্মতিপত্র লাগে। কিন্তু সেরকম কোনও কাগজ তাদের কাছে ছিল না। ধৃতরা জামিন পায়নি। জেলে রয়েছে। আগামী ১২ তারিখ আবার আদালতে শুনানি আছে। আজ মৃতার ময়নাতদন্ত হয়েছে। অভিযোগ ছিল চোখ এবং অন্যান্য অঙ্গ দান করা হয়েছে। তবে চোখ ছাড়া অন্য সব অঙ্গ ঠিক ছিল, তার প্রমাণ রয়েছে। মৃতার শুধু চোখ ছিল না।

আরও পড়ুন-ভোট বড় বালাই! গণপিটুনিতে মৃত দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারকে বিপুল টাকা সাহায্য ইউনূস সরকারের

আরও পড়ুন- বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে প্লেনে! তথ্য-সহ ভয়ংকর গুপ্তহত্যার অভিযোগ তুলে দিলেন অজিত পওয়ারের বিধায়ক-ভাইপো…

এদিকে, পরিবারের দাবি মায়ের মৃত্যুর পর পূর্ব অঙ্গীকার মত তাঁর ছেলে পেশায় শিক্ষক আমির চাঁদ মায়ের চক্ষু দান করেন। বহরমপুর মেডিক্যাল কলেজে চোখ রাখা হয়। কিন্তু প্রতিবেশীদের লিখিত অভিযোগ ছিল মায়ের চোখ বিক্রি করে দিয়েছে ছেলেরা। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় পুত্র-সহ গোটা পরিবারকে। গতকাল তাদের আদালতে পেশ করলে তাদের ৩ দিনের জেল হেফাজত হয়।

অন্যদিকে, মৃতদেহের আজ ময়না তদন্ত হয় কল্যানীতে। এ নিয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার বলেন আমরা চার্জশিট দিইনি। তদন্ত চলছে, মৃতার পরিবার আমাদের কোনও কাগজ দেখাতে পারেনি। তাই গ্রেফতার করা হয়। 

উল্লেখ্য, আজ বিকেলে বিজ্ঞানমঞ্চ, সমাজকর্মীরা, APDR-এর কর্মীরা পুলিসের বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর কোতয়ালী থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায়। আমির চাঁদ-সহ পরিবারের সব সদস্যকে মুক্তির দাবি করা হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি রাজনৈতিক কারণে এই গ্রেফতার করে পুলিস। আগামীদিনে কোনও মানুষ চোখ দানের অঙ্গীকার করতে গিয়ে ভয় পাবে, মৃত্যুর পর চোখ দান করলে ছেলে মেয়েরা গ্রেফতার হয়ে যেতে পারে।

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের AppFacebookWhatsapp ChannelX (Twitter)YoutubeInstagram পেজ-চ্যানেল)





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version