দেবাঞ্জন বন্দ্য়োপাধ্যায়: বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হয়েছে এক বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত। এর জরে উত্তাল হবে সমুদ্র। বইতে পারে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হওয়া। আন্দামান এবং শ্রীলঙ্কা উপকূলের বিস্তীর্ণ অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস। ফলে ভারত -পাক ম্যাচের আগে খেলা হওয়া নিয়ে আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই কলম্বোয় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এর জেরে পুরো সময় অনুশীলন করতেই পারল না টিম ইন্ডিয়া।
ভারত-পাকিস্তান হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের মাত্র দুদিন আগে কলম্বোর আকাশ মোটামুটি পরিষ্কারই ছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া দপ্তর বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরির সতর্কতা জারি করেছে। এর ফলে রবিবারের হাই-প্রোফাইল ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যাওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কলম্বোর খেত্তারামা এলাকা নিয়ে রবিবারের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দিনের শুরুতে আবহাওয়া গরম ও গুমোট থাকবে। তাপমাত্রা বাড়তে পারে। বিকেলের দিকে মাঝেমধ্যে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৫০% থেকে ৭০%।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় খেলা শুরু হওয়ার কথা। তবে কিছু আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, খেলা শুরুর ঠিক আগের কয়েক ঘণ্টায় প্রবল বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে টস হতে দেরি হতে পারে অথবা ওভার কমিয়ে ছোটো ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাত ৮টার পর আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও,সারা রাত জুড়ে মাঝে মাঝে বৃষ্টির সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।
প্রেমদাসা স্টেডিয়ামের একটি বড় সুবিধা হলো এর উন্নত জলনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং অভিজ্ঞ মাঠকর্মী, যারা কলম্বোর এই ভারী বৃষ্টি সামলাতে অভ্যস্ত। বিশ্বের অনেক স্টেডিয়ামে শুধু পিচ ঢেকে রাখা হলেও, প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে পুরো খেলার মাঠ ঢেকে ফেলার মতো পর্যাপ্ত কভার বা ত্রিপল রয়েছে। এর ফলে বৃষ্টির জল সরাসরি আউটফিল্ডে পড়ে মাঠকে ভেজাতে বা কর্দমাক্ত করতে পারে না।
আরও পড়ুন-প্রেম দিবসের আগেই হার্দিকের বাগানে বসন্তের ফুল, ‘আমার মহাপুরুষ’ বলে বেডরুমে হইচই রূপসী মাহিকার…
আরও পড়ুন-প্রেমদিবসে যুবভারতীর কামব্যাক, ‘জয় মোহনবাগান’ গর্জনেই বোধন আইএসএলের…
এখানকার মাঠকর্মীরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে হাতের সাহায্যে ত্রিপলের ওপর জমে থাকা জল ঠেলে একটার পর একটা পার করে মাঠের ধারের ড্রেন পর্যন্ত পৌঁছে দেন। এই পদ্ধতিটি যান্ত্রিক ‘সুপার সপার’ ব্যবহার করার চেয়েও অনেক বেশি দ্রুত এবং কার্যকর। সাধারণত, ভারী বৃষ্টি থেমে যাওয়ার মাত্র ৪৫ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যেই মাঠ আবার খেলার উপযোগী হয়ে ওঠে।
এদিকে, আইসিসি বিশ্বকাপে ভারত বনাম পাকিস্তান দ্বৈরথে ভারত প্রায় একতরফা আধিপত্য বজায় রেখেছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি পরিসংখ্যান
মোট ম্যাচ: ৮টি
ভারত জয়ী: ৭টি
পাকিস্তান জয়ী: ১টি
টাই: ১টি (ভারত বোল-আউটের মাধ্যমে জিতেছিল)
ঐতিহাসিক কিছু মুহূর্ত
২০০৭ উদ্বোধনী ফাইনাল: জোহানেসবার্গের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পাকিস্তানকে ৫ রানে হারিয়ে ভারত প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়।
২০২১-এ জয়লাভ: দুবাইতে পাকিস্তানের কাছে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পরাজিত হয় ভারত; পাকিস্তান ১০ উইকেটে জয় পায়।
২০২২ এমসিজি মহাকাব্য: মেলবোর্নে ৯০,০০০ দর্শকের সামনে বিরাট কোহলির স্মরণীয় ৮২ * রানের ইনিংস ভারতকে শেষ বলে জয় এনে দেয়।
২০২৪ কম রানের লড়াই: নিউইয়র্কে মাত্র ১১৯ রান ডিফেন্ড করে ভারত ৬ রানে ম্যাচ জিতে নেয়।
আইসিসি টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সবচেয়ে বড় জয় ছিল ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ফাইনালে, যেখানে তারা ভারতকে ১৮০ রানে হারিয়েছিল। যদিও তা বিশ্বকাপের ম্যাচ ছিল না।
তবে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের রেকর্ড এখনও ০-৮।
সর্বমোট মুখোমুখি পরিসংখ্যান (সব ফরম্যাট)
টেস্ট: পাকিস্তান ১২-৯ ব্যবধানে এগিয়ে (৩৮টি ড্র)
ওয়ানডে: পাকিস্তান ৭৩-৫৮ ব্যবধানে এগিয়ে (৫টি ফলাফলহীন)
টি-টোয়েন্টি: ভারত ১৩-৩ ব্যবধানে এগিয়ে
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)