Mythology
oi-Sanjay Ghoshal
ভগবান বিষ্ণু যুগে যুগে নানা অবতার রূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছেন। গরুড় পুরাণে বিষ্ণুর অবতার সম্বন্ধে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। কথায় বলা হয় বিষ্ণুর দশাবতার। কিন্তুর বিষ্ণুর অবতার সংখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে বিস্তর। কোনো কোন মতে বলা হয় বিষ্ণুর ২২ অবতার রয়েছে।
তবে বিষ্ণুর মুখ্য অবতারের সংখ্যা যে ১০, সেটাই স্বীকৃত হয়েছে। সেই দশ অবতারের কী নাম, তাঁর কী রূপ, কেন তিনি আবির্ভুত হয়েছিলেন, তা নিয়েই এই প্রতিবেদন। বিষ্ণুর দশ অবতারের মহিমা অপার।

বিষ্ণুর প্রথম অবতার হলেন মৎস্য। পুরাণ অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রথম মানুষ মনুকে এক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে ভগবান বিষ্ণুকে মৎস্য রূপে আবির্ভূত হতে হয়েছিল। তাঁর শরীরের উপররে অংশ ছিল পুরুষ মানুষের মতো, নীচের অংশ ছিল মাছের মতো।
ভগবান বিষ্ণুর দ্বিতীয় অবতার ছিলেন কূর্ম। সত্যযুগে এই অবতার রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন সমুদ্র মন্থনের সময়। মন্থনকালে মন্দার পর্বত সমুদ্রের নীচে ডুবে যাচ্ছিল। তাই সেই সময় বিষ্ণু কূর্ম অবতার রূপে অর্থাৎ কচ্ছপের রূপ নিয়ে মন্দার পর্বত ধারণ করেছিলেন। তার ফলেই অমৃত প্রাপ্তি সম্পূর্ণ হয়েছিল।
বিষ্ণুর তৃতীয় অবতার হলেন বরাহ। ভগবান বন্য শূকরের রূপ নিয়ে সত্যযুগে আবির্ভূত হয়েছিলেন। পুরাণ অনুযায়ী, পৃথিবীকে হিরণ্যাক্ষ নাম মহাশক্তিশালী অসুরের হাত থেকে রক্ষা করতেই তাঁর মর্ত্যে আসা। হিরণ্যাক্ষ পৃথিবীকে মহাজাগতিক সমুদ্রের নীচে লুকিয়ে রেখেছিলেন। হাজার বছর ধরে যুদ্ধের পর হিরণ্যাক্ষকে বধ করে পৃথিবীকে উদ্ধার করেন বরাহরূপী বিষ্ণু।
বিষ্ণুর চতুর্থ অবতার রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন নৃসিংহ বা নরসিংহ। সত্যযুগের এই অবতার দেহ মানুষের মতো আর মাথা সিংহের মতো। হিরণ্যাক্ষের ভাই হিরণ্যকশিপুকে দমন করতে তিনি আবির্ভূত হন। তাঁর অত্যাচারে যখন পুত্র বিষ্ণুভক্ত প্রহ্লাদের জীবন সংশয় হয় তখনই নৃসিংহরূপী বিষ্ণু বিনাশ ঘটান হিরণ্যকশিপুর।
পঞ্চম অবতার রূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন বামন। অসুর বলিকে দমন করার জন্য তিনি বামন রূপ নিয়েছিলেন। বলি ছিলেন অতি দানী। অসুর অধিপতি যজ্ঞের আয়োজন করলে ভগবান বিষ্ণু সেখানে বামন অবতার রূপে আবির্ভূত হয়ে তিন পা রাখার মতো জমি চান। বলি তা দিতে রাজি হয়ে যান। সেইসময় বামন তাঁর দেহ বর্ধিত করে বিষ্ণুরূপ ধারণ করেন।
বিষ্ণুদেব তারপর এক পা স্বর্গে অন্য পা মর্ত্যে রাখেন। আর তাঁর পেট চিরে তৃতীয় এক পা বেরিয়ে রাখার জায়গা চাইলে বলি তাঁর মাথা পেতে দেন। বলি পাতালে প্রবেশ করেন। আর বিষ্ণুর স্তব করতে থাকেন। তখন প্রহ্লাদ তাঁর কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তাঁর মুক্তি চান। তখন বিষ্ণু তাঁকে মুক্ত করেন।
বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার রূপে আবির্ভূত হন পরশুরাম। তিনি ছিলেন ত্রেতা ও দ্বাপর যুগ মিলিয়ে। ব্রাহ্মণ জমদগ্নি ও ক্ষত্রিয় রেণুকার পুত্র। পরশুরাম কঠোর তপস্যা করে শিবের থেকে যুদ্ধ বিদ্যা শেখেন। তিনিই ছিলেন প্রথম যোদ্ধা সন্ত। সহস্রকবচ অসুরকে নিধন করতে তাঁর মর্ত্যে আসা। সমুদ্রের হাত থেকে তিনি মালাবার ও কোঙ্কন উদ্ধার করেন।
বিষ্ণুর সপ্তম অবতার ছিলেন রামচন্দ্র। ত্রেতাযুগে তিনি অবতীর্ণ হন। অযোধ্যার রাজা দশরথ ও কশল্যার পুত্র ছিলেন তিনি। লঙ্কাধিপতি রাবণের অত্যাচার থেকে ধরিত্রীকে রক্ষা করতে তিনি এসেছিলেন। রাবণকে বধ করে তিনি সীতা উদ্ধার করে রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
বিষ্ণুর অষ্টম অবতার ছিলেন কৃষ্ণ। দ্বাপর যুগে অন্যায়, অধর্মের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে কৃষ্ণের আবির্ভাব। তিনিই ছিলেন সম্পূর্ণ অবতার। আবার তাঁকে পূর্ণ অবতারী অর্থাৎ বিষ্ণুর পূর্ণরূপ বলে মনে করা হয়। অবতার মনে করা হয় বলরামকে। যাই হোক, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অধর্মের বিনাশ ঘটিয়ে ধর্মকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে কৃষ্ণ এসেছিলেন দ্বাপর যুগে।
বিষ্ণুর নবম অবতার হলেন গৌতম বুদ্ধ। কলি যুগে অবতীর্ণ হন তিনি। এই অবতার নিয়েও নানা মতভেদ আছে। তবে বুদ্ধকে মহারাষ্ট্র ও গোয়ায় বিভিন্ন মন্দিরে বিষ্ণুর নবম অবতার রূপে মানা হয়। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে বুদ্ধকে বিষ্ণুর নবম অবতার রূপে পুজো করা হয়।
আর বিষ্ণুর দশম ও শেষ অবতার হলেন কল্কি। কলি যুগের শেষে তাঁর আবির্ভাব হবে বলে মনে করা হয়। পুরাণ মতে, সাদা ঘোড়ায় তলোয়ার হাতে তিনি আবির্ভূত হবেন। কলিযুগের অবসান ঘটিয়ে সমস্ত পাপের মুক্তি ঘটিয়ে তিনি পুনরায় সত্যযুগের সূচনা করবেন।
English summary
Mythology: God Bishnu had 10 avatars in four era including Rama and Krishna