বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাকে বেছে নেবে বিজেপি? কার পাল্লা ভারী | পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কে? শুভেন্দু না কি অগ্নিমিত্রা? | West Bengal Next CM Candidates List


West Bengal

-Ritesh Ghosh

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কে হবেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? এই সিদ্ধান্তই বলে দেবে যে বিজেপি কেমন নেতা বা নেত্রীকে অগ্রাধিকার দেবে।

বিজেপির কাছে বরাবরই বাংলা ছিল এক ‘চূড়ান্ত লক্ষ্য’। কেননা এটি জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমি। তাই বাংলায় বিজেপি এবার ব্যাপক জয়লাভ করার পর, দল এমন একজন শক্তিশালী মুখকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিতে পারে। তিনি একজন মহিলা হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে শেষ পর্যন্ত কী হয় তা সময়ই বলবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর প্রচারের সময় বারবার জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, ক্ষমতায় এলে বিজেপি একজন ‘বাঙালি’কেই মুখ্যমন্ত্রী করবে।

আঞ্চলিক দলগুলোর মতো বিজেপি সাধারণত রাজ্য নির্বাচনে নির্দিষ্ট কোনো মুখ্যমন্ত্রী মুখ তুলে ধরে না। বাংলার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই ছিলেন দলের একমাত্র ইউএসপি।

গত এক মাস ধরে প্রধানমন্ত্রী মোদী আক্ষরিক অর্থেই বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন। তাঁকে ঝালমুড়ি খেতে দেখা গেছে, যা বাংলার এক পরিচিত খাবার। এছাড়া তিনি কালী মন্দির দর্শন করেছেন (যেখানে আমিষ প্রসাদও দেওয়া হয়), বাংলার প্রিয় ফুটবল খেলেছেন এবং বাংলা ভাষায় একটি অডিও বার্তাও পোস্ট করেছেন। মনে হচ্ছে, বাংলার মানুষ ‘ব্র্যান্ড মোদী’-র ওপরই আস্থা রেখেছেন।

কিন্তু এই ব্র্যান্ডকে কে এগিয়ে নিয়ে যাবে? বিজেপি যখন নারী নিরাপত্তাকে তাদের প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছিল, তখন গেরুয়া শিবির একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত করতে পারে। মহিলা সংরক্ষণ আইন নিয়ে বিতর্কের পর বিজেপি সম্ভবত এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তাদের নারী-বান্ধব ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার চেষ্টা করবে।

দলের অন্যতম পরিচিত মহিলা নেত্রীদের মধ্যে রয়েছেন অগ্নিমিত্রা পল ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, যিনি বিআর চোপড়ার জনপ্রিয় ‘মহাভারত’ ধারাবাহিকে দ্রৌপদী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সুপরিচিত। অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিরোধী দলনেতা এবং মমতার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং প্রভাবশালী দিলীপ ঘোষ।

শুভেন্দু অধিকারী

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রভাবশালী নেতা এবং মমতার এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী শুভেন্দু অধিকারীকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলার বিজেপির অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর রয়েছে সুদূরপ্রসারী জনসংযোগ ও শক্তিশালী সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক। মেদিনীপুর অঞ্চলে তাঁর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। মমতার নিজের গড় ভবানীপুরেও তিনি কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলেন। তবে তাঁর ভাবমূর্তি পুরোপুরি স্বচ্ছ নয়। ২০২১ সালে নারদ স্টিং অপারেশন মামলায় তাঁর নাম এসেছিল, যেখানে তাঁকে ক্যামেরায় ঘুষ নিতে দেখা গিয়েছে।

শমীক ভট্টাচার্য

নবনিযুক্ত রাজ্য বিজেপি সভাপতি সামিক ভট্টাচার্য আরএসএস (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দলের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার জন্য সুপরিচিত। পর্দার আড়ালে কাজ করতে পারদর্শী হিসেবে পরিচিত শমীক ভট্টাচার্য বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে বিজেপির প্রসার ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

অগ্নিমিত্রা পল

ফ্যাশন ডিজাইনার থেকে রাজনীতিতে আসা অগ্নিমিত্রা পল বাংলার বিজেপির অন্যতম শীর্ষ মহিলা নেত্রী। তিনি বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে রাজ্য সহ-সভাপতি হয়েছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে পল তাঁর আসানসোল দক্ষিণ আসনটি ধরে রেখেছেন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ফ্যাশন টেকনোলজির এই প্রাক্তন শিক্ষার্থী তাঁর সক্রিয় প্রচার শৈলী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণের জন্য পরিচিত।

রূপা গঙ্গোপাধ্যায়

বিআর চোপড়ার ‘মহাভারত’ ধারাবাহিকে দ্রৌপদী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বিজেপির আরও একজন জনপ্রিয় মহিলা নেত্রী যিনি রাজ্যসভার সাংসদও ছিলেন। সোনারপুর দক্ষিণের এই বিধায়ক শহুরে ভোটারদের কাছে বেশ জনপ্রিয় এবং মহিলা মোর্চার রাজ্য সভাপতি হিসেবে তাঁর দুই বছরের কার্যকালের কারণে তৃণমূল স্তরেও তাঁর ভালো যোগাযোগ রয়েছে।

দিলীপ ঘোষ

আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক শৈলী এবং ব্যাপক জনসংযোগের জন্য পরিচিত বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে ২০২১ সালের নির্বাচনে দলের ভালো পারফরম্যান্সের জন্য কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছিল, যখন বিজেপি বাম-কংগ্রেস জোটকে হটিয়ে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। যদিও তিনি এখন আর রাজ্য সভাপতি নন, তবুও তিনি বাংলার রাজনীতিতে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত এবং মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে ‘ডার্ক হর্স’ হতে পারেন।

আরএসএস-এর পুরনো সদস্য ঘোষ ২০১৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন বাংলার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এবং পরের বছরই তাঁকে রাজ্য সভাপতি করা হয়। তবে তিনি মাঝে মাঝে বেফাঁস মন্তব্যের জন্য পরিচিত এবং ব্যাপকভাবে বিতর্কিত।

বিজেপি তাদের ঐতিহাসিক বাংলা জয়ের পর শুভেন্দু বা দিলীপ ঘোষের মতো পরিচিত মুখের ওপর বাজি ধরে নাকি একজন মহিলা নেত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বেছে নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *