Kolkata
-Ritesh Ghosh
পশ্চিমবাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। এর মধ্যেই, সদ্য জয়ী বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’-এর অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি-র ‘পরিবর্তন’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে তারা বলেছে, এই ‘পরিবর্তন’ এসেছে বুলডোজারের মাধ্যমেই।
মঙ্গলবার রাতে তৃণমূল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে অভিযোগ করেছে, বিজেপি কর্মীরা কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় বুলডোজার দিয়ে দোকানপাট ও স্থানীয় তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুর করেছে। ভিডিওতে উচ্চস্বরে গান ও উল্লাসের মধ্যে একটি বুলডোজারকে দোকানে ভাঙচুর চালাতে দেখা যায়।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল তাদের পোস্টে লিখেছে: “বিজেপি-র ‘পরিবর্তন’ এসেছে, আর তা এসেছে বুলডোজার নিয়ে। চূড়ান্ত গুন্ডামি ও গুন্ডাগিরির মাধ্যমে, বিজেপি সমর্থকদের দল নিউ মার্কেট এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছে, দোকানপাট ধ্বংস করেছে এবং তৃণমূল কংগ্রেস দলীয় কার্যালয়ও ভাঙচুর করেছে। এটি সেই দলের উদযাপন, যারা আস্থার কথা বলেছিল এবং সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিয়েছে।”
তৃণমূল আরও অভিযোগ করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাদের কর্মীদের “রাস্তায় তাণ্ডব চালানোর এবং যাকে খুশি তাকে হত্যা করার লাইসেন্স” দিয়েছেন। তারা আরও উল্লেখ করে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও “নিষ্ক্রিয় থাকতে ও ঘটনা ঘটতে দিতে” নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদায়ী দল একটি সতর্কবার্তাও দিয়েছে: আজ দোকানপাটের ওপর আক্রমণ হলেও, আগামীকাল তা বিজেপি-র রাজনৈতিক বিরোধীদের উপর হতে পারে, এরপর “বাংলার বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের মূর্তির উপর”। তাদের আশঙ্কা, “এবং শেষ পর্যন্ত গরিব ও অরক্ষিত মানুষদের বাড়িতেও এই হামলা হবে। কিন্তু বাংলায় যেখানেই বিজেপি-র বুলডোজার গড়াবে, সেখানে প্রতিরোধের একটি দেওয়াল দেখবে। আমরা রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষক এই সন্ত্রাসের নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করব।”
তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্রও ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, “কলকাতার ঐতিহাসিক নিউ মার্কেট। বাঙালিরা পরিবর্তন উপভোগ করছে।” মঙ্গলবারের অন্য এক পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, “গুন্ডামি ও বর্বরতা” বাংলার প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে পড়েছে। মৈত্র বলেন, “শপথ গ্রহণের আগেই যে সাম্প্রদায়িক স্লোগান ও ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে, তা বাঙালিদের আসন্ন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করবে।”
