West Bengal

-Ritesh Ghosh

এদিন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়, যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঞ্চে উপস্থিত ৯২ বছর বয়সী মাখনলাল সরকারকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন। এই দৃশ্য উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

মাখনলাল সরকার প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আলিঙ্গন করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁকে শাল ও উত্তরীয় পরিয়ে সম্মানিত করেন। ওঁনার বাড়ি উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির ডাবগ্রাম সূর্যনগর এলাকার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে, বিজেপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কাশ্মীর যাত্রার একনিষ্ঠ সঙ্গী ছিলেন মাখনলাল। স্বাধীনতার পরে যখন শ্যামাপ্রসাদ কাশ্মীর সমস্যা নিরসনে ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন এবং গ্রেফতার হয়েছিলেন, তখন মাখনলালও তাঁর সহযাত্রী হিসেবে জেল খেটেছিলেন। শ্যামাপ্রসাদ জেলে মারা গেলেও, মাখনলাল ছাড়া পেয়ে ফিরে আসেন।

স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এক উল্লেখযোগ্য মুখ ছিলেন তিনি। শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রেখে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের স্বপ্ন লালন করছিলেন, যা এদিন বাস্তব হওয়ায় তার চোখে মুখে আনন্দের আভা স্পষ্ট ছিল।

১৯৮০ সালে বিজেপি গঠিত হওয়ার পর মাখনলালের রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। তিনি দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিং জেলার সাংগঠনিক সমন্বয়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এক বছরের মধ্যে তিনি প্রায় ১০ হাজার সদস্য নথিভুক্ত করে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

পরবর্তীকালে ১৯৮১ সাল থেকে একটানা সাত বছর তিনি জেলা সভাপতি হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালীন দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে এটি একটি বিরল কৃতিত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীও উত্তরবঙ্গে গিয়ে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন।

এদিনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছাড়াও বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা এবং এনডিএ-শাসিত ২১ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে মাখনলাল সরকার মঞ্চে উঠলে বিজেপির নেতারা তাঁকে এগিয়ে এসে সম্মাননা জানান।

English summary

শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ৯২ বছর বয়সী প্রবীণ বিজেপি নেতা মাখনলাল সরকারের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভাবশিষ্য মাখনলাল সিলিগুড়ির বাসিন্দা, যিনি ১৯৫২ সালের কাশ্মীর আন্দোলনের সাক্ষী এবং বাংলার বিজেপি সংগঠনের অন্যতম কারিগর। ব্রিগেডের মেগা মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধা প্রদর্শন রাজনৈতিক বৃত্তে গভীর প্রভাব ফেলেছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed

Exit mobile version