টাকা সর্বনিম্ন নেমে ৯৬-এর ঘরে, ডলারের বিপরীতে কেন বারবার ধাক্কা খাচ্ছে ভারতীয় মুদ্রা? | ভারতীয় রুপি ৯৬-এর কাছাকাছি রেকর্ড পতন | Indian Rupee Hits Record Low Against US Dollar


Business

-Ritesh Ghosh

অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি, শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে ভারতীয় টাকা প্রবল চাপে রয়েছে। শুক্রবার, ডলারের বিপরীতে টাকা ৯৬-এর কাছাকাছি লেনদেন হয়েছে, যা এর দুর্বলতা স্পষ্ট করে।

আন্তঃব্যাঙ্ক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে টাকা ৯৫.৮৬-এ শুরু হয়ে দিনের প্রথম দিকে ৯৫.৯৫-এ নেমে আসে, যা আগের বন্ধের থেকে ৩১ পয়সা কম। বৃহস্পতিবার টাকা ৯৫.৯৬-এর নতুন রেকর্ড সর্বনিম্ন ছুঁয়েছিল, তবে দিনের শেষে সামান্য বেড়ে ৯৫.৬৪-এ স্থিতিশীল হয়।

বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইরান-ইজরায়েল সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহে সম্ভাব্য ব্যাঘাতের আশঙ্কায় বিশ্ব বিনিয়োগকারীরা ডলারের দিকে ঝুঁকছেন। এতে ডলার-টাকা জুটি চাপের মুখে রয়েছে।

টাকার দুর্বলতার অন্যতম প্রধান কারণ হল অপরিশোধিত তেলের দামে বৃদ্ধি। ভারত তার মোট তেলের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করে, ফলে টাকা দুর্বল হলে আমদানি খরচ বৃদ্ধি পায়।

বিশ্ব তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার বাজারে ১.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলারের উপরে লেনদেন হয়েছে। পশ্চিম এশিয়া থেকে জ্বালানি সরবরাহের ব্যাঘাতের আশঙ্কা অপরিশোধিত তেলের নতুন চাহিদা বাড়িয়েছে, যা ভারতের মতো দেশের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

সরকারিভাবে শুক্রবার থেকে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে তেলের উচ্চ মূল্যজনিত জ্বালানি বাজারের ক্রমবর্ধমান চাপকেই প্রতিফলিত করে।

অপরিশোধিত তেল ছাড়াও শক্তিশালী মার্কিন ডলার টাকার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের শক্তি পরিমাপক ডলার ইনডেক্স ০.২৪ শতাংশ বেড়ে ৯৯.০৫-এ পৌঁছেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর প্রতীক্ষিত বৈঠক থেকে কোনও বড় অগ্রগতি না আসায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ভঙ্গ হয়েছে, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমস্যা প্রসঙ্গে। বাজার বিশ্লেষকরা কিছু কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা করেছিলেন যা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে এবং তেলের দাম স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে। তবে তাইওয়ান এবং চিনের ইরান থেকে তেল কেনা নিয়ে চলমান মতবিরোধ উদ্বেগ কমায়নি।

তবে ভারতীয় বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কর কমানোর সম্ভাব্য খবরে বৃহস্পতিবার টাকা তার সর্বনিম্ন স্তর থেকে পুনরুদ্ধার ঘটায়। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য বিদেশি পুঁজি আকর্ষণ ও মুদ্রাকে সমর্থন। এক্সচেঞ্জ ডেটা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FIIs) ১৮৭.৪৬ কোটি টাকার ইক্যুইটি কিনে নিট ক্রেতা হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed