West Bengal

-Ritesh Ghosh

ফলতা বিধানসভা নির্বাচনে ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। আজ, মঙ্গলবার প্রচার শেষ হওয়ার আগেই এক সাংবাদিক বৈঠকে জাহাঙ্গির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আগামী ২১ মে ফলতা আসনে ভোটগ্রহণ হবে।

এই ঘোষণা আসে শুভেন্দু অধিকারীর ফলতা সফরের মাত্র দু’দিন পরই। এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী জাহাঙ্গিরের বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছিলেন, “ওর দায়িত্ব আমার উপর ছেড়ে দিন।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী পরিচিত জাহাঙ্গিরের এমন আকস্মিক ‘পলায়ন’ রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আচমকা সরে আসার কারণ হিসাবে জাহাঙ্গির ফলতার উন্নয়ন ও শান্তিরক্ষাকে তুলে ধরেছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি কেবল বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতার উন্নয়নে স্পেশাল প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এই নির্বাচন থেকে আমি সরে দাড়াচ্ছি।” এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।

জাহাঙ্গিরের এই সিদ্ধান্তে বিরোধী শিবির তীব্র কটাক্ষ করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেলেন। ওনার বস কোথায়? যে রাষ্ট্রশক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিল আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলে হাত দিয়ে দেখাক।”

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীও প্রশ্ন তোলেন, “এরা বড় বড় কথা বলে, এত ঔদ্ধত্য, ভয়ে পালিয়ে গেল?” তিনি আরও যোগ করেন, “সিপিএম বারবার আক্রান্ত হয়েও মাটি কামড়ে লড়াই চালিয়েছিল। এদের মতো পালিয়ে যায়নি।”

তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ অবশ্য ভিন্ন মত পোষণ করেন। তাঁর মন্তব্য, দল খতিয়ে দেখবে ‘পুষ্পা’ কেন ভয় পেল। তিনি বলেন, “নিশ্চয় এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।” ফলতার ‘ডাকাবুকো’ নেতা জাহাঙ্গির ২৯ এপ্রিল পুলিশ পর্যবেক্ষকের হুঁশিয়ারির পরেও বলেছিলেন, “পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি।”

রাজনৈতিক পরিস্থিতির বদলের পর জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। তিনি কলকাতা হাইকোর্ট থেকে রক্ষাকবচও নেন। এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডাকে এক লাখেরও বেশি ভোটে জেতানোর আহ্বান জানিয়ে, জয়ী হলে বিশেষ প্যাকেজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় জাহাঙ্গিরের নাম ইভিএমে থাকছে। তবে তাঁর এই আচমকা ঘোষণার পরই এলাকায় বিজেপি কর্মীরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছেন।

English summary

ফলতা বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান হঠাৎ লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছেন। প্রচার শেষ হওয়ার ঠিক আগে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে উন্নয়নের লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় ইভিএমে নাম থাকলেও, জাহাঙ্গিরের এই পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version