West Bengal
-Ritesh Ghosh
‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির উত্তর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বিশেষ প্রকল্পের আবেদনপত্রে পরিবারের আর্থিক অবস্থা থেকে শুরু করে সদস্য সংখ্যা এবং সন্তান কোন বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে, তার খুঁটিনাটি জানতে চাওয়া হয়েছে। যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মহলে বেশ কিছুদিন ধরেই নানা কৌতূহল ও জল্পনা বাড়ছিল। এবার ফলতার একটি রাজনৈতিক সভা থেকে সেই যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পুরো বিষয়টি সবিস্তারে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতায় আয়োজিত একটি সভা থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু স্পষ্ট করে জানান, যে সব দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েরা সরকারি কিংবা সরকার পোষিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আওতাভুক্ত, তারা প্রত্যেকেই কোনও রকম জটিলতা ছাড়াই এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ আর্থিক সুবিধা লাভ করবেন। তবে বেসরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ নিয়ম ও শর্ত রাখা হয়েছে, যা আবেদন করার আগে সাধারণ মানুষের অবশ্যই বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে উক্ত বিদ্যালয়টির সরকারি অনুমোদন বা বোর্ড স্বীকৃতি থাকা বাধ্যতামূলক। যদি সংশ্লিষ্ট বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি রাজ্য সরকারের কিংবা নির্দিষ্ট কোনো জাতীয় শিক্ষা বোর্ডের দ্বারা স্বীকৃত হয়, তবেই সেই পড়ুয়ার পরিবার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের অধীনে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। কিন্তু কোনো স্বীকৃতিহীন বা অনুমোদনহীন বেসরকারি স্কুলে সন্তান পড়লে এই টাকা পাওয়া যাবে না।
আবেদনপত্রে কেন সন্তানের বিদ্যালয়ের নাম এবং বিস্তারিত শিক্ষাগত তথ্য জানতে চাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে বিগত কিছুদিন ধরেই সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক চলছিল। অনেকের মনেই এমন ভয় দানা বেঁধেছিল যে, বেশি খরচ করে বেসরকারি বা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে সন্তানকে পড়ানোর কারণে হয়তো অনেক দরিদ্র বা মধ্যবিত্ত পরিবারকে এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হতে হবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর নতুন ঘোষণায় সেই ভুল ভাঙল।
আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সবচেয়ে সফল এবং জনপ্রিয় সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প ছিল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। যার মাধ্যমে রাজ্যের কোটি কোটি সাধারণ পরিবারের মহিলারা প্রতি মাসে আর্থিক অনুদান পেয়েছেন। এই প্রকল্পের বিপুল জনপ্রিয়তার পাল্টা হিসেবেই বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালু করার ঢালাও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এই নতুন প্রকল্পে মহিলাদের মাসিক আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে প্রতি মাসে সরাসরি তিন হাজার টাকা করার কথা বলা হয়। সরকারে এসে সেই কথা রেখেছে বিজেপি। তবে এখন রাজ্য জুড়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে যেভাবে জালিয়াতি হয়েছে তাতে সরকার একটু বুঝে পা ফেলতে চাইছে। সঠিক লোকের হাতে যাতে টাকা ঢোকে, সেব্যাপারে সরকার প্রথম থেকেই সচেষ্ট।
English summary
Opposition leader Suvendu Adhikari has clarified the confusion regarding the ‘Annapurna Bhandar’ welfare scheme, specifically focusing on school eligibility criteria for the 3000 monthly financial aid. He addressed public concerns to eliminate doubts among beneficiaries regarding requirements for government and private school students to receive the promised benefits.
