Kolkata

-Ritesh Ghosh

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রাক্কালে শহর কলকাতা চনমনে। সুস্থ জীবনযাত্রা ও শরীরচর্চার বার্তা ছড়িয়ে দিতে তিলোত্তমায় আয়োজিত হল “দৌড় সে ধ্যান” (রান ফর যোগা) ম্যারাথন। শুক্রবার সকালে এই বর্ণাঢ্য ম্যারাথনের সূচনা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে রাজপথজুড়ে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গিয়েছে।

নবান্ন ও আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ম্যারাথনের মূল উদ্দেশ্য কেবল দৌড় নয়, বরং এর মধ্য দিয়ে নাগরিকদের মনে সুস্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তা এবং যোগব্যায়ামের কার্যকারিতা সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়া। এই কর্মসূচিতে অংশ নেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট নাগরিক, ক্রীড়াবিদ ও উৎসাহী যুবসমাজ। আধুনিক জীবনযাত্রার ব্যস্ততার মাঝে কীভাবে সুস্থ মন ও শরীরের অধিকারী হওয়া সম্ভব, এই দৌড় যেন তারই প্রতীকী উদযাপন।

এবারের “দৌড় সে ধ্যান” ম্যারাথনের একটি বড় ইতিবাচক দিক ছিল রাজ্যের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক বিরল সমন্বয়ের চিত্র। মুখ্যমন্ত্রীর আন্তরিক আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর অসীম বসু। রাজনীতির ময়দানে কড়া টর্বকর থাকলেও, জনকল্যাণ ও স্বাস্থ্য সচেতনতার মতো মহতি বিষয়ে রাজনৈতিক ভেদাভেদ যে অন্তরায় হতে পারে না, এই অনুষ্ঠান যেন তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

কার্যসূচি চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাউন্সিলর অসীম বসু রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণকে সম্মান জানিয়ে তারা সকলেই এই ম্যারাথনে হাজির হয়েছেন। কলকাতা পুরনিগম এবং রাজ্যের স্বার্থে যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজে তারা সবসময় একসাথে কাজ করতে প্রস্তুত। জনগণের সেবা এবং রাজ্যের অগ্রগতির প্রশ্নে তারা রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

অসীম বসুর এই মন্তব্যকে কলকাতার বিশিষ্টজন ও সাধারণ নাগরিকেরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, খেলাধুলা, উৎসব এবং স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মসূচিগুলিতে দলীয় পরিচয় ভুলে একসঙ্গে শামিল হওয়া আমাদের মহানগরের দীর্ঘদিনের সুস্থ ঐতিহ্য। মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলের কাউন্সিলরের এই যৌথ অংশগ্রহণ কেবল পারস্পরিক সমন্বয়কেই সুদৃঢ় করেনি, বরং শহরবাসীকে এক সুন্দর ও একতাবদ্ধ সমাজ গড়ে তোলার নতুন বার্তা দিয়েছে।

অন্যদিকে, আসন্ন ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনের পাশাপাশি এই বছর কলকাতার জন্য আরও একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই দিন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পশ্চিমবঙ্গে আসার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাবিত সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে তাঁকে স্বাগত জানাতে রাজ্যজুড়ে পুরোদমে প্রশাসনিক মহলে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। এই প্রস্তুতির অন্যতম প্রধান অঙ্গ হলো পরিচ্ছন্ন সবুজ শহর গড়ে তোলা।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনের সার্বিক উদ্যোগে শুরু হয়েছে এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান, যার নাম রাখা হয়েছে “স্বচ্ছতা সে স্বাগত”। বুধবার কলকাতার পবিত্র গঙ্গার ঘাট সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী মায়ের ঘাটে নিজে উপস্থিত থেকে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘ কয়েকদিন ধরে চলা এই বিশেষ রূপান্তর কর্মকাণ্ড শনিবার সমাপ্ত হবে।

মায়ের ঘাটের এই স্বচ্ছতা অভিযানে কেবল সূচনাই নয়, সশরীরে ঝাড়ু হাতে পরিষ্কারের কাজে শামিল হতে দেখা গেছে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকে। এই অভিযানে তাঁর সাথে সার্বিক সহযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অগ্নিমিত্রা পালসহ প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও স্থানীয় কর্মীবৃন্দ। মুখ্যমন্ত্রীর এমন সক্রিয় ভূমিকা গঙ্গার ঘাটগুলিকে দূষণমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করার এই সরকারি আন্দোলনকে নাগরিক স্তরে আরও বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছে।

এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, সুস্থ সমাজ ও পরিবেশ রক্ষায় স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই। গঙ্গার ঘাটগুলি আমাদের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই সেগুলিকে পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের পরম দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর শ্রেষ্ঠ উপায় হল আমাদের চারপাশকে সুন্দর ও দূষণমুক্ত করে তোলা, আর এই সচেতনতা ছড়িয়ে দিতেই সমগ্র রাজ্যজুড়ে “স্বচ্ছতা সে স্বাগত” অভিযানের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

চিকিৎসক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, আজকের গতিশীল জীবনে সুস্থ জীবনশৈলী বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুল খাদ্যাভ্যাস আর দৈনন্দিন কাজের চাপের কারণে বহু মানুষ নানা শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে “দৌড় সে ধ্যান” ম্যারাথনের মতো শরীরচর্চার উদ্যোগ ও নিয়মিত যোগসাধনার বার্তা প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। কলকাতার এই কর্মসূচি সাধারণ মানুষকে এক নতুন সুস্থ পথ দেখাবে।

একইভাবে, শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি আমাদের পরিবেশকে রোগজীবাণুমুক্ত রাখাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের ঘাট সাফাইয়ের মতো কর্মসূচি আসলে সেই বার্তাই দেয় যে, সুস্থ মানুষের বেঁচে থাকার জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ একান্ত প্রয়োজন। শরীরচর্চা ও পরিবেশ সচেতনতা—এই দুইয়ের সার্থক মেলবন্ধনই পারে একটি সুন্দর রাজ্য ও মহানগর গড়ে তুলতে, যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হবে।

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের পূর্ববর্তী এই সমস্ত বর্ণিল আয়োজন ও প্রশাসনিক তৎপরতা কলকাতার সাধারণ মানুষ তথা যুবমানসের মধ্যে গভীর ইতিবাচক ভাবাবেগ তৈরি করেছে। রাজনীতির সংকীর্ণ গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে স্বাস্থ্য ও সুস্থতার তাগিদে যেভাবে সবাই এক ছাতার তলায় জড়ো হয়েছেন, তা এক উজ্জ্বল নজির। এই সুস্থ ও স্বাস্থ্যসচেতন আগামী দিনের স্বপ্নই এখন শহর কলকাতার প্রতিটি অলিতে-গলিতে প্রবাহিত হচ্ছে, যা আগামী দিনগুলিতে এই মহানগরকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

English summary

Ahead of International Yoga Day 2026, Kolkata witnessed a unique blend of fitness and unity. Chief Minister Suvendu Adhikari joined a ‘Run for Yoga’ marathon and led the ‘Swachhata Se Swagat’ cleanliness campaign. Political leaders set aside differences to promote health and hygiene, creating a vibrant atmosphere across the city to welcome Prime Minister Narendra Modi.



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version