Happy woman pointing at copy space on whiteboard
‘ধর্ম মানে সিস্টিন চ্যাপেলের গায়ে মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর পেন্টিং।’ ম্যাডলি বাঙালি ছবিতে অঞ্জন দত্তর মুখ দিয়ে এই কথাগুলোই শোনা গিয়েছিল। এক মুসলিম যুবককে ধর্মের মানে বোঝাতে গিয়ে ধর্মকে এক কথায় ব্যাখ্যা করা হয়েছিল আর্ট হিসেবে। আর সেই আর্টেরই বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল উৎসবের শহরে। কলকাতার ধর্মতলার স্যাকরেড হার্ট চার্চে (Kolkata Dharmatala Sacred Heart Church)। যেখানে ক্রিসমাসের (Christmas 2022) জন্য সেজে ওঠা চার্চের বারান্দায় আলপনা দিলেন এক হিন্দু মহিলা। যার ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সোশাল মিডিয়ায়। যা দেগে মুগ্ধ নেটিজেনরা।

Church Christmas Decorations : বড়দিনের কাউন্টডাউন শুরু, সেজে উঠছে রায়গঞ্জের সেন্ট জোসেফ ক্যাথিড্রাল চার্চ
শহর কলকাতা (Kolkata) বরাবরই আপন করে নিয়েছে প্রত্যেক ধর্মের উৎসবকে। এই শহরেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ বহন করছে ধর্মতলার হগ মার্কেটের নাহুমস দোকানটি। ঐতিহ্যবাহী এই কেকের দোকানের মালিক ইহুদি। দোকানের কেকগুলি তৈরি করেন মুসলিম কারিগররা। খ্রিস্টানদের বড়দিন উৎসবে এই কেকে খেয়েই উদযাপন করেন হিন্দুরা। ঠিক তেমনই যীশুপুজোর এই উৎসবে ধর্মতলার স্যাকরেড হার্ট চার্চের অন্দরমহলও আলপনায় সাজিয়ে তুললেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী রত্নাবলী ঘোষ। শিল্পের যে প্রকৃত অর্থেই কোনও বর্ণ নেই, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন এই শিল্পী। দীপাবলির সময় মানুষের বাড়ির সামনে আলপনা দিতেন, সেই রত্নাবলী ঘোষই এবার স্যাকরেড হার্ট চার্চে অভিনব আলপনা দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। চার্চের অন্দরমহলে নিজের শিল্পকলার মাধ্যমে এক ভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তুলছেন এই শিক্ষিকা। চার্চের সাদা ঝকঝকে মার্বেলের উপর সাদা আলপনার প্রলেপ দিতেই যেন সৌন্দর্য আরও বেশি করে ফুটে উঠছে। এই দৃশ্য বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বার্তা ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর সঙ্গে এই শিল্পে সহায়তা করেছেন প্রশান্ত এবং লিপিকা নামে আরও দুই হিন্দু শিল্পী (Hindu Artist Alpona In Church)। এই আলপনার মধ্যে দিয়ে তাঁরা ফুটিয়ে তুলেছেন খ্রিস্টান ধর্মের নানা চিহ্ন।

 

Kolkata Police Arrangement On Christmas : ক্রিসমাস ইভ থেকে বর্ষবরণ, উৎসবের শহরে বাড়তি নজরদারি পুলিশের
কেবলমাত্র ধর্মতলার স্যাকরেড হার্ট চার্চ (Sacred Heart Church) নয়, মিডলটন স্ট্রিটের সেন্ট থমাস চার্চেও রত্নাবলী ঘোষের আলপনা দেখা গিয়েছে। যাতে রয়েছে হিন্দু এবং খ্রিস্টানদের নানা সংস্কৃতি এবং অভিনবত্বের ছোঁয়া। স্যাকরেড হার্ট চার্চের ফাদার হিন্দু শিল্পীদের এই কাজে খুশি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই বার্তা বর্তমান সময় অত্যন্ত প্রয়োজন বলেই মনে করছেন তিনি।

Coronavirus in India : বড়দিনের আগেই বড় বিপদের আশঙ্কা, রাজ্যগুলিকে পর্যাপ্ত অক্সিজেন মজুত রাখার নির্দেশ কেন্দ্রের
সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে চার্চের বেদিতে হিন্দু সংস্কৃতির আলপনা। যা দেখে উচ্ছ্বসিত শহরবাসী। এবারের ক্রিসমাস ইভ আর বড়দিনে তাই সকলেরই গন্তব্যস্থল ধর্মতলার স্যাকরেড হার্ট চার্চ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version