West Bengal News : DVC-র ছাড়া জলে ফি বছর বন্যার কবলে পড়ে হাওড়া জেলার আমতা ও উদয়নারায়নপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা। জনজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চাষবাসের ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রভাব পড়ত। বন্যার কবল থেকে হাওড়া জেলার আমতা ও উদয়নারায়নপুর সহ রাজ্যের পাঁচটি জেলাকে বাঁচাতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Chandrima Bhattacharya : ১০ থেকে বেড়ে ৩০ শয্যার হচ্ছে নিমতা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, শিলান্যাস চন্দ্রিমার
সেইমতো রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেজর ইরিগেশন অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাঙ্ক এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্টাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কের যৌথ আর্থিক সহায়তায় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়। সেই টাকাতেই রাজ্যের পাঁচটি জেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রনের কাজ চলছে।

PM Awas Yojana : ‘কোথায় দুর্নীতি ধরতে পারছে না..’, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ মন্ত্রীর
সেচ দফতর সূত্রে খবর, প্রকল্পের এই কাজে নদী বাঁধ নির্মাণ ছাড়াও সেচ খাল সংস্কার করা হবে। পাঁচ বছরের এই কার্যকালে ১৮০ কিলোমিটার প্রধান সেচ খাল এবং ২৭০০ কিলোমিটার সহকারী খাল সংস্কার করা হবে। এছাড়াও বন্যা নিয়ন্ত্রণে নদীগুলির পলি উত্তোলন ছাড়াও নদী বাঁধ উঁচু করে নির্মাণ করা হবে।

Indus Water Treaty : সিন্ধু জল চুক্তি সংশোধন নোটিশের জবাব পাকিস্তানের, কী বলল ইসলামাবাদ?
সেচ দফতরের আশা, কাজ শেষ হয়ে গেলে হাওড়া সহ রাজ্যের পাঁচটি জেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। এদিকে প্রকল্পের মধ্যকালীন কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে গতকাল শনিবার উদয়নারায়নপুরে আসেন বিশ্ব ব্যাঙ্ক এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্টাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিরা। এদিনের এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন এই প্রকল্পের বিশ্ব ব্যাঙ্কের কর্নধার মিঃ হিউপ এবং এশিয়ান ব্যাঙ্কের কর্নধার ডেভিড জিনটিন।

Sundarban : ঘূর্ণিঝড় ইয়াস কেড়ে নিয়েছিল স্কুল-বাড়ি, ২ বছর পর শিক্ষাঙ্গনে সুন্দরবনের কচিকাঁচারা
এছাড়াও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছিলেন সেচ দফতরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার দেবাশীষ সেনগুপ্ত, সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার কল্যাণ দে, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার (হাওড়া) রঘুনাথ চক্রবর্তী সহ অন্যান্য আধিকারিকবৃন্দ। এদিন বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিরা উদয়নারায়ণপুরের পেঁড়ো, বকপোতা, শিবানীপুর এলাকার কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন। পরে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হুগলির কাজ খতিয়ে দেখতে যান।

সেচ দফতর জানিয়েছে, ২০২০ সাল থেকে রাজ্যের পাঁচটি জেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রনের কাজ শুরু হয়েছে। সেই প্রকল্পের মধ্যকালীন কাজের অগ্রগতি দেখতে বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিরা ৩রা এপ্রিল থেকে ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত জেলাগুলি ঘুরে দেখছেন। এই সময় বিশ্ব ব্যাঙ্ক এবং এশিয়ান ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিরা অর্থনৈতিক এবং কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন।

National Highway 6 : জাতীয় সড়ক অবরোধ কুড়মিদের, যানযটে নাকাল সাধারণ মানুষ
হাওড়া জেলা সেচ দফতর সূত্রে খবর, এদিন উদয়নারায়ণপুরে কাজের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে বন্যা প্রতিরোধে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন আমতা ও উদয়নারায়নপুরের বাসিন্দারা।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আগে প্রতি বছর বর্ষার সময় DVC জল ছাড়লে একের পর এক গ্রাম প্লাবিত হয়ে যেত। দীর্ঘদিন জল যন্ত্রণায় ভুগতে হতো আমাদের। রাস্তাঘাট বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ফসল প্রচুর নষ্ট হতো। ফলে চরম আর্থিক সংকটে ভুগতে হত আমাদের”। দুই ব্লকের বাসিন্দাদের বক্তব্য প্রকল্পের কাজ শেষ হলে তারা অনেক উপকৃত হবেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version