West Bengal News : দাঁত মুখ খিঁচিয়ে যখন তখন আক্রমণ, ভয়ে ঘর থেকে বেরোতে পারছেন না বাসিন্দারা। প্রশাসনের কাছে দরবার করেও দেখা নেই তাঁদের। শান্ত স্বভাবের প্রাণীটির হঠাৎ কি এমন হল কাউকে একা বাগে পেলেই কামড়ে দিচ্ছে! একপ্রকার নিজের দখলে রেখেছে এলাকা। আর তার আক্রমণে জখম হয়েছেন ৩০ থেকে ৩৫ জন। পবন পুত্রের এহেন আচরণে বেজায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। তাঁদের এখন গ্রামে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে হুগলির বলাগরের জিরাট হাটতলার বাসিন্দাদের রাতের ঘুম ছুটেছে। এলাকায় রীতিমতো আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে একটি হনুমান। এখন ভরা আমের মরসুম।

জেলাশাসকের চশমা নিয়ে চম্পট দিল বাঁদর! নাজেহাল অবস্থা পুলিশের
গাছে গাছে আম পেকে রয়েছে। খাবারের অভাব নেই, জিরাটের মত উন্নত কৃষি প্রধান এলাকায়। তা সত্ত্বেও হনুমান কেন তাণ্ডব চালাচ্ছে বুঝে উঠতে পারছেন না গ্রামবাসীরা। পথ চলতি মানুষদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আক্রমণ চালানোর পাশাপাশি, বাড়িতেও ঢুকে হামলা চালাচ্ছে।

সন্তানের চিকিৎসা করাতে ক্লিনিকে পৌঁছে গিয়েছে বাঁদর! অবাক নেটদুনিয়া
জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৩০ থেকে ৩৫ জনকে কামড়ে আঁচড়ে জখম করেছে। ছুটে পালাতে গিয়ে পড়ে হাত পা ভেঙেছে কারও। হনুমানের কামড়ে জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে আক্রান্তদের অনেককেই। এক আহতের তিরিশটা সেলাই পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ব্লক প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে বারবার হনুমানের আতঙ্কের কথা জানানো হয়েছে।

Bankura-য় অবাক কাণ্ড! হোটেলে ঢুকে মাছ-ভাত চেটেপুটে সাফ করল বাঁদর
কিন্তু কেউ খোঁজও নেয়নি। বন দফতরকে জানানো হলে একটি বাড়ির ছাদে খাঁচা পেতে দায় সেরেছে। হনুমানটি হাটতলা অঞ্চলের বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে পড়ছে। দাঁত মুখ খিঁচিয়ে আক্রমন করছে। ছোট ছোট শিশুরা আতঙ্কে বাইরে খেলতে বা পড়তে যেতে ভয় পাচ্ছে। গ্রামবাসীদের দাবি অবিলম্বে এর একটা বিহিত করা হোক নাহলে আরও অনেকে হনুমানের আক্রমনের শিকার হবে।

মানুষ মানে না-ওরা মানে, করোনা থেকে বাঁচতে মাস্ক পরছে বাঁদরও!
স্থানীয় বাসিন্দা মহামায়া মণ্ডল বলেন, “আমরা দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ, ভয়ে বাইরে বেরোতে পারছি না। যখন তখন এসে কামড়ে দিচ্ছে। এতটাই আতঙ্কে রয়েছি যে গ্রামে বাস করা দায় হয়ে পড়েছে। ছোট ছোট ছেলেরা তারা বাড়ির বাইরে বের হতে পারছে না। শুধু হাটতলা নয় দক্ষিণপাড়া পশ্চিমপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ওই হনুমান।

অনেকে ছুটে পালাতে গিয়ে পড়ে হাত পা ভেঙে যাচ্ছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে BDO-র দফতরে জানিয়েও কিছুই হয়নি”। অপর এক গ্রামবাসী রতন মল্লিক বলেন, “গত চার দিন ধরে হনুমানের আক্রমণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। যখন তখন কামড়ে দিচ্ছে। কারও ৮ টি কারও আবার ৩৯ টি সেলাই পড়েছে।

কেউ আবার ছুটে পালিয়ে প্রাণে বাঁচতে গিয়ে হাত ভেঙেছে। প্রশাসনের দফতরে জানিয়েও কিছুই হয়নি। প্রশাসন যদি এবার কোনও ব্যবস্থা না করে, তাহলে আমরা রেল অবরোধ করব”। এই বিষয়ে বন দফতরের কারোর প্রতিক্রিয়া মেলেনি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version