জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ এক বিজেপি প্রার্থীর বাড়ির বাইরে কথা বলছেলেন কয়েকজন দলীয় কর্মী সমর্থক। অভিযোগ, সেই সময় একদল দুষ্কৃতী আচমকাই তাঁদের ওপর এসে হামলা চালায়। চলে গুলি বোমা। ঘটনায় আহত ৪ বিজেপি কর্মী সমর্থক। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর আশঙ্কাজনক।
বিজেপি কর্মী পীযূষ বর্মন বলেন, ‘আমাদের তিন বিজেপি কর্মী মিলন বর্মন বয়স, চন্দ্র বর্মন ও অর্জুন বর্মন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া হিরো বর্মন নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।’ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। জখম ৪ জনকেই উদ্ধার করে প্রথমে বামনহাট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে ২ জনকে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে ও বাকি ২ জনকে কোচবিহারে স্থানান্তরিত করা হয়।
বিজেপির দিনহাটা শহর মণ্ডল সভাপতি অজয় রায় বলেন, ‘এদিন ভোট প্রচার শেষে বিজেপি প্রার্থীর বাড়ির সামনে দলের নেতা কর্মীরা বসেছিলেন। সেই সময় তৃণমূল আশ্রিত দুস্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে। চারজন আহত হয়েছেন। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’ যদিও বিজেপির তোলা কোনও অবিযোগই মানতে রাজি নয় তৃনমূল। এই প্রসঙ্গে দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি দীপক ভট্টাচার্য বলেন, ‘সমস্ত অভিযোগই ভিত্তিহীন।’
প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকে বারেবারেই উত্তপ্ত হয়েছে কোচবিহার। ইতিমধ্যে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রায় প্রতি রাতেই রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলায় গিয়েছিলেন রাজ্যপালও। সেই সময় তাঁর সঙ্গে দেখা করেন বিরোধী নেতারা। এমনকী রাস্তায় গাড়ি থামিয়েও বিরোধীদের অভিযোগ শোনেন তিনি। মৃতদের পরিবারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন রাজ্যপাল। যদিও তারপরেও পরিস্থিতির পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। সংঘর্ষের ঘটনা এখনও অব্যাহত। রাত পোহালেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। সেক্ষেতরে ভোট কতটা শান্তপূর্ণ হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ভোটারদের মধ্যে।
