হেমাভ সেনগুপ্ত সিউড়ি: নিজের সর্বস্ব দিয়ে স্বপ্নপূরণ করলেন বীরভূমের লেডি কনস্টেবল ছবিলা খাতুন। সিউড়ি কড়িধ্যা শালবুনি আদিবাসী পাড়ায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি করেছেন বৃদ্ধাশ্রম। নাম দিয়েছেন ‘ছবির স্বপ্নপুরী বৃদ্ধাশ্রম’। সেখানে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে ১০ জন অসহায় আদিবাসী বৃদ্ধার। পুলিশের কাজে যোগ দিয়ে অসহায় মেয়েদের পাশে দাঁড়ানো, নিরন্নদের আহার তুলে দেওয়া ছিল সামান্য মাইনের চাকুরি ছবিলার প্রধান কাজ। সেই কাজ করতে করতেই বৃদ্ধাশ্রম তৈরির জেদ চাপে। তারপর অনেক সমস্যা কাটিয়ে স্বপ্নপূরণ।

Konkona Sen Sharma : ‘মা দেখতে দেয়নি…’, কঙ্কনাকে রামায়ণ-মহাভারত দেখতে বারণ করেন অপর্ণা! কেন জানেন?
ছোটবেলা থেকেই অসহায় মানুষের জন্য কাজ করেন ছবিলা। পুলিশের চাকরি করতে করতে তাঁর চোখে পড়ে সম্বলহীন মেয়েদের দুর্দশা। সেই ভাবনা থেকেই ‘ছবির স্বপ্নপুরী বৃদ্ধাশ্রম’ নামে এই প্রতিষ্ঠানের পথচলা। ছবিলার স্বামীও পুলিশে কাজ করেন। দু’জনের উপার্জনের টাকা দিয়েই সমাজসেবা করেন তাঁরা। চাকরির জমানো টাকায় একটা চার চাকা গাড়ি কিনেছিলেন ছবিলা। কিন্তু যখন বৃদ্ধাশ্রমের জায়গা কিনতে টাকার টান পড়ে, তখন সেই গাড়ি বিক্রি করে জমি কেনেন তিনি। তারপর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে স্বপ্নপুরী।

সিউড়ির হুসনাবাদ পেরিয়ে তসরকাটার জঙ্গলের ভিতরে আদিবাসী পাড়ায় ছবির মতো বৃদ্ধাশ্রম। আসলে স্বপ্নপুরী এক্সপ্রেস। বাইরে থেকে বাড়িটা দেখতে একটা রেলগাড়ির মতো। দেড় বিঘা জমির উপরে লম্বা করে সেই ঘর দেখলে মনে হবে সোনাঝুরির জঙ্গলে যেন একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে রয়েছে। নিজস্ব উদ্যোগ ও ভাবনায় ভারতীয় রেলের আদলে তৈরি দু’টি ঘরে ২০ জনের থাকার ব্যবস্থা।

Jadavpur University Ragging : খবর লিক না হয়, হস্টেলে ঘরবন্দি জনা ১৪ পড়ুয়াও!
তবে এখনও পর্যন্ত ১০ জনের চৌকি, থালা-বাসন জোগাড় করতে পেরেছেন ছবিলা। নিজের মা ক্যান্সারে আক্রান্ত। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। তা সত্ত্বেও বৃদ্ধাদের জন্য নিজেই রান্না করেন ছবিলা। তাঁর কথায়, ‘আমার স্বপ্ন, অসহায় মহিলাদের নিজের মায়ের মতো সেবা করার। সেটা করতে পেরেছি। এতে আমার মাও ভালো থাকবে। শান্তি পাবে।’ অসহায় বৃদ্ধা শান্তিলতা বলেন, ‘ছবিলার মতো মেয়ে ঘরে ঘরে জন্মাক। তাহলে কেউ কষ্ট পেয়ে মরবে না।’

Purba Bardhaman News : লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে বার্ধক্য ভাতা জোটেনি কিছুই, অর্ধাহারে দিনযাপন বর্ধমানের দুঃস্থ পরিবারের
পেশায় পুলিশ কনস্টেবল স্বামী নিয়াতমূল করিম এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্য ছবিলার উপর আগে রাগ করতেন। কিন্তু বৃদ্ধাদের এক সঙ্গে হোমে থাকতে দেখে অভিমান ভুলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনিও। বৃদ্ধাশ্রম চালাতে ঋণ হয়ে যাওয়ার কথা শুনে সিউড়ির ট্রাফিক ওসি কয়েক মাসের চাল কিনে দিয়েছেন। সপ্তাহে এক দিন গিয়ে বৃদ্ধাদের চেকআপের প্রতিশ্রতি দিয়েছেন সিউড়ির একাধিক চিকিৎসক।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version