অরূপকুমার পাল, ঝাড়গ্রাম
যন্ত্র নয়, শ্রমিকদের দু’হাতেই ভরসা রাখেন তিনি। তাই জেসিবি মেশিনের বদলে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ লেবারকে তাঁর বালি খাদানে কাজ দেন। ব্যতিক্রমী ভাবনা নিয়ে বালি খাদান চালাচ্ছেন গোপীবল্লভপুরের রাখাল জানা। সুবর্ণরেখা নদীর তীরে চেকপোস্ট এলাকায় সরকারি লিজ নিয়ে সেই ২০১৬ থেকে বালি খাদানে লেবারদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন তিনি।

Khela Hobe Dibosh 2023 : ‘খেলা হবে দিবস’-এই তালা বন্ধ স্টেডিয়াম! ক্ষুব্ধ ক্রীড়াপ্রেমিকরা
রাখাল বলেন, ‘এতে আমার তেমন ব্যবসায়িক কোনও ক্ষতি হয় না। হয়তো একটু লাভ কম হয়, কিন্তু এত মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও তো হয় এতে! আমি ব্যবসা করছি প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে। নদী থেকে বালি তুলছি। তার বিনিময়ে সমাজকে কিছু দেওয়ার দায়িত্বও আমার উপর বর্তায় বলে মনে করি।’
বালি নিয়ে কারবার, লোকে অনেক সময় বালি মাফিয়া ভেবেও ভুল করে। রাখাল বলেন, ‘আসলে বালি তোলার কথা শুনলেই লোকে বালি মাফিয়ার কথা ভাবে। সেটা খারাপ লাগে। তবে আমি লাইসেন্স নিয়েই এই কাজ করি।’ গোপীবল্লভপুর এক নম্বর ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক অনির্বাণ চৌধুরী বলেন, ‘হ্যাঁ, ওই বালি খাদানটি সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত। এবং সরকারি নিয়ম মেনেই স্টক বালি বিক্রির অনুমতি রয়েছে।’

Mamata Banerjee : ‘দেশ পরাধীন করে রেখেছে বিজেপি’, স্বাধীনতা দিবসের আগে মমতার নিশানায় মোদী
কারবার হয়তো অনেকেই করেন, তবে রাখালবাবু নিজের সঙ্গে বাকিদের কর্মসংস্থানের কথাও ভাবেন। খাদানে একশো সিএফটি বালি গাড়িতে লোড করার জন্য লেবাররা ২৫০-৩০০ টাকা পান। আর সেখানে জেসিবি দিয়ে কাজ করালে ওই একই পরিমাণ বালি লোড করতে মাত্র ৫০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু জেসিবি মেশিন থাকলেও তা দিয়ে গাড়িতে বালি লোড করান না তিনি। তাঁর কথায়, ‘জেসিবি মেশিন তো কোটিপতি লোকের। তাঁদের টাকা দিয়ে লাভ কী? জেসিবি দিয়ে বালি লোড করলে এলাকায় কাজ না পেয়ে লেবারদের মধ্যে হাহাকার পড়বে। কাজ না জুটলে ওদের ভাতও জুটবে না। এটাই বা সহ্য করি কী করে? ওদের জন্য ভাবি বলেই হয়তো আমার লোকবলের অভাব হয় না বিপদে-আপদে!’

Purba Medinipur : জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত! মহিষাদলে রাস্তা সংস্কারে গ্রামবাসীরা
অনেক লেবারের আবার খাদানে শেয়ার রয়েছে। বালি বিক্রির লভ্যাংশ পান তাঁরা। সঙ্গে গাড়িতে বালি লোডের উপরি তো আছেই! সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর বর্ষার জন্য নদী থেকে বালি তোলা জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বন্ধ থাকে। ওই সময় সরকারি নিয়ম অনুসারে, স্টকে থাকা বালি শুধু বিক্রি করা যায়। গত বছর কম পরিমাণে বালি স্টক করায় লেবাররা কাজ পাননি। সেই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করতে গিয়ে রাখাল বলেন, ‘গত বছর কম বালি স্টক ছিল বলে লেবাররা পনেরো দিন অন্তর আমার বাড়িতে এসে কান্নাকাটি করত। জিজ্ঞেস করতো, খাব কী? তাই এবারে একটু বেশি করে প্রায় ৪০ লাখ সিএফটি (কিউবিক ফিট) বালি স্টক করেছি সরকারি নিয়ম মেনেই। পুজো পর্যন্ত দু’হাতে কাজ পাবেন ওঁরা।

Kajal Sheikh News : কেষ্ট-বিরোধী কাজলের হাতে জেলা পরিষদের ব্যাটন! নয়া ‘ভাইজান’-এর উত্থান বীরভূমে
রাখাল জানার বালি খাদানে কাজ করেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বসন্তপুরের বাসিন্দা হরেন নায়েক। তিনি বলেন, ‘আমার ১০০ দিনের কার্ড আছে, কিন্তু কাজ নেই। বাড়িতে ছেলেপুলে রয়েছে। এতগুলি পেট ভরাতে বালি খাদানে কাজ করি। এখানে তো কোথাও বড় শিল্প নেই। আমাদের এলাকার ৩০ জন এখানে কাজ করে।’ নেকড়াশোলের বাসিন্দা আকুলচন্দ্র পৈড়া বলেন, ‘অন্য জায়গায় তো জেসিবি দিয়েই বালি লোড করে। সেখানে শ্রমিকদের কাজ কই? এই খাদান মালিক আমাদের জন্য ভেবেছেন, এটাই বড় কথা।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, ‘এই কাজ বন্ধ হয়ে গেলে এলাকায় চুরি-ছিনতাই বেড়ে যাবে। লোকে খাবে কী?’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version