সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দিতে দুয়ারে সরকার শুরু করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এবার সরকারের এই পদক্ষেপ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে চালু হল ‘দুয়ারে বিদ্যালয়’। বীরভূম জেলার প্রান্তিক এলাকার স্কুল পড়ুয়ারা পড়াশোনা ছেড়ে যোগ দিচ্ছে দিনমজুরের কাজে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে স্কুল ছুটের সংখ্যা। পড়ুয়ারা যাতে পড়াশোনা চালিয়ে নিয়ে যেতে পারে সেই কারণে ‘দুয়ারে বিদ্যালয়’ শুরু করল বীরভূমের যদুরায় হাই স্কুল।

Teacher Recruitment : বাটি হাতে রাস্তায় মাস্টারমশাইরা! শিক্ষক দিবসে নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী হাওড়া
করোনা কালের পর থেকেই বাড়ছে স্কুল ছুটের সংখ্যা। সেই স্কুল ছুট ঠেকাতেই সিউড়ির করিধ্যা যদুরায় মেমোরিয়াল হাইস্কুলের তরফে চালু করা হয়েছে ‘দুয়ারে বিদ্যালয়’ প্রকল্প। স্কুল কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ ইতিবাচক, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই পদক্ষেপের কারণে স্বাভাবিকভাবে খুশি পড়ুয়া থেকে শুরু করে অভিভাবকরা।

Taruner Swapna Scheme 2023 : প্রত্যেক পড়ুয়ারা পাবেন ১০ হাজার টাকা, ​কী ভাবে আবেদন করবেন তরুণের স্বপ্ন প্রকল্প?
সিউড়ি ১ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত যদুরায় হাই স্কুল। মূলত প্রান্তিক এলাকার ছাত্র-ছাত্রীরাই পড়ে এই স্কুলে। তবে করোনা পরিস্থিতির পর থেকে প্রান্তিক এলাকার প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়েই বাড়ছে স্কুল ছুটের সংখ্যা। পড়াশোনা ছেড়ে ছাত্র-ছাত্রীরা বাবা মায়ের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে দিনমজুরের কাজে । এক কথায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাদের ভবিষ্যৎ। সেই কারণে এই অভিনব পদক্ষেপ নিল কর্তৃপক্ষ।

যদুরাই মেমোরিয়াল হাইস্কুল আয়োজিত দুয়ারে বিদ্যালয় ঠিক কী?

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছেন, মূলত এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা যাচ্ছেন স্কুল ছুট পড়ুয়াদের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে তাদের সমস্যার কথা শুনছেন শিক্ষকরা। পাশাপাশি খুঁজছেন সমাধানও, যাতে পড়ুয়ারা কাজের পাশাপাশি পড়াশোনাটাও করে। এমনকী পড়াশোনা চালিয়ে যেতে স্কুলের তরফে বিভিন্ন ধরনের সাহায্যের আশ্বাসও দেওয়া হচ্ছে তাদের।

Young Teacher : গ্রামের কচিকাঁচাদের দায়িত্বে খুদে মাস্টার, শিক্ষার আলো জ্বালাচ্ছে ‘সৌরভ মামা’র পাঠশালা
কী বলছেন পডুয়া-শিক্ষকরা?

যদুরাই মেমোরিয়াল হাইস্কুলের শিক্ষক পার্থ সারথি ঘোষ বলেন, ‘আমাদের স্কুলটি প্রান্তিক এলাকায় অবস্থিত। স্বাভাবিকভাবেই যে সমস্ত ছাত্রীরা আমাদের স্কুলে আছে তাদের বাবা মায়েরা কেউ দিনমজুরের কাজ করে কেউ পরিচারিকার কাজ করে। সংসারে আর্থিক অনটনের কারণে পড়ুয়াদেরও বাবা-মায়ের সঙ্গে কাজে যোগ দিতে হয়। এখন যেহেতু নবম ও একাদশ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন চলছে। তরুণের স্বপ্ন ট্যাবের টাকা ঢুকছে। এই সমস্ত সরকারি প্রকল্পের সুবিধার তারা ঠিকঠাক পাচ্ছে কিনা সেটা যেমন আমাদের দেখা উদ্দেশ্য ছিল। তেমনই পড়ুয়ারা কেন স্কুলে আসছে না সেটাও জানার চেষ্টা করেছি। স্কুল ছুটকে আটকানোর জন্য আমরা আজকে এই প্রকল্পটা নিয়েছিলাম দুয়ারে বিদ্যালয় । এই ভাবে ডোর টু ডোর আমরা প্রত্যেক শনিবার যাব।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version