এই সময়: দেওয়াল, তবে প্লাস্টিকের। কলকাতার রাজপথে মাইলের পর মাইল জুড়ে বিস্তৃত ওই দেওয়াল। কারও গায়ে ছাপা প্রসাধনী সংস্থার বিজ্ঞাপন, কারও গায়ে অন্তর্বাসের। কেউ প্রচার করছে হালকা পানীয়ের, কেউ বা মোবাইল ফোন সার্ভিস প্রোভাইডারের। দেওয়ালগুলো আসলে ফ্লেক্স আর ব্যানার। ও সবের ঠিকঠাক সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। ধরে নেওয়া যায়, কয়েক লক্ষ তো হবেই। আবার, ওজন করলে কত টন হবে, সেই হিসেবও নেই কারও কাছে। এই তথ্যের অভাব বিষয়টাকে ক্রমশ আরও বেশি করে বিপজ্জনক করে তুলছে।

Durga Puja 2023 : বঙ্গের দুর্গাপুজোয় অনুদান ঢালতে চায় পদ্ম-শিবিরও, কটাক্ষ তৃণমূলের
বাতাসে পুজো পুজো আবহটা আসতেই প্রতি বছর নতুন নতুন সেট-এর ফ্লেক্স পড়তে শুরু করে শহর জুড়ে। শুধু পুজো নয়, রাজনৈতিক প্রচারেও এখন ফ্লেক্স-ব্যানার এক রকম অপরিহার্য। বছরভর এমন কত যে ফ্লেক্স রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করা হয়, সেই সংখ্যাটাও কারও কাছে নেই। পলিভিনাইল ক্লোরাইডের তৈরি এমন ফ্লেক্স আর ব্যানারের পরিণামে কলকাতাকে নিয়মিত কতটা দূষণের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, পাওয়া যাচ্ছে না সেই হিসেবও।

Ganesh Chaturthi 2023 : কৃত্রিম জলাধারে গণেশ প্রতিমা বিসর্জন নয়,বড় পর্যবেক্ষণ বোম্বে হাইকোর্টের
‘নজর এড়িয়ে যাওয়া’, কিন্তু পরিবেশের মারাত্মক দূষণ ঘটানো এই বিশেষ উপকরণের ব্যবহারে লাগাম দিতে শনিবার এক আলোচনাচক্রের আয়োজন করেছিল পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে কর্মরত জনকল্যাণকর সংস্থা ‘মৃত্তিকা আর্দি টক্‌স ফাউন্ডেশন’। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এবং ডিরেক্টর সোমিনি সেন দুয়া ছাড়াও এই আলোচনাসভায় যোগ দেন পরিবেশবিজ্ঞানী স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী এবং পরিবেশরক্ষা নিয়ে কর্মরত জনহিতকর অন্য একটি সংস্থা ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ’-এর প্রধান অজয় মিত্তল। ‘প্রকৃতির পুজো, প্রাণের পুজো’ শীর্ষক এই আলোচনাচক্রেই এ দিন ফ্লেক্সের হাত থেকে শহরকে রক্ষার ডাক দেওয়া হয়।

Drinking Water Crisis : ঘোলা জলে মিটতে পারে জলের সংকট
আলোচনাচক্রে উদ্বেগ প্রকাশ করে সোমিনি সেন দুয়া বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও আমরা দেখেছি, বিজ্ঞাপন এবং রাজনৈতিক প্রচারে কাপড় ব্যবহার করা হতো। সেটাই এখন বদলে গিয়েছে পলিভিনাইল ফ্লেক্সে। একটা-দু’টো নয়, বেশ কয়েক স্তরে, অসংখ্য ফ্লেক্স নিয়ে প্রচার চলে। তিনতলা কোনও বাড়ির পুরোটা পর্যন্ত এমন ফ্লেক্সে ঢাকা পড়ে যায়। বছরে শহরে যে কত ফ্লেক্স ব্যবহার করা হয়, তার কোনও ডেটা নেই।’

Bankura Tourist Spot : পুজোয় বাঁকুড়ায় বেড়াতে যাবেন? শুশুনিয়ার কোলে এবার বাড়তি পাওনা
পরিবেশবিজ্ঞানী স্বাতী নন্দী চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘এই ফ্লেক্স কী ভাবে ডিসপোজ় বা নষ্ট করা হবে, সেই বিষয়ে কোনও গাইডলাইন নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ও সব পুড়িয়ে দেওয়া হয়। যার ফলে মারাত্মক ক্ষতি হয় পরিবেশের।’ তা হলে সমাধান কী? অজয় মিত্তল বলছেন, ‘আগের মতো কাপড়, পাট এবং ক্যানভাসের ব্যানার ব্যবহার ফের শুরু করলেই আর দূষণের ভয় থাকবে না।’ আলোচনাসভার উদ্যোক্তাদের মতে, ‘শুধু পরিবেশ দূষণ নয়, এই ধরনের ফ্লেক্স ব্যবহারে বাড়ছে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কাও। তাপ বিকিরণের ক্ষেত্রেও এমন ফ্লেক্স বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’

Vishwakarma Puja 2023: আপনার নিজের গাড়ি থাকলে বিশ্বকর্মা পুজোয় এই কাজ করতে ভুলবেন না
তবে এখন যা পরিস্থিতি, তাতে বাস্তবে আদৌ কি ফ্লেক্সের ব্যবহার কমানো সম্ভব? পুজো মিটে গেলে এই ফ্লেক্স কী ভাবেই বা নষ্ট করা যেতে পারে? সর্বজনীন দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তাদের সংগঠন, ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক শাশ্বত বসু বলেন, ‘পুজো চলে স্পনসরদের টাকায়। খরচ বাঁচাতে এখন ওই স্পনসররাই পলিভিনাইল ফ্লেক্স তৈরি শুরু করেছেন। তবে দূষণ যে ভাবে বাড়ছে, তাতে আমাদের এ বার অন্য পন্থা ভাবতে হবে।’ শাশ্বতর সাফ কথা, ‘কলকাতা আমাদের সবার ভালোবাসার শহর। এই শহরকে দূষিত হতে দেওয়া যাবে না।’

Ganesh Chaturthi 2023 Date :সাজবেন সিদ্ধিধাতা, নিরাপত্তার স্বার্থে ২৫ কোটির বিমা মুম্বইয়ের আইকনিক লালবাগচা পুজো কমিটির
কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ (পরিবেশ) স্বপন সমাদ্দার মনে করছেন, ‘ফ্লেক্সের সমস্যা ক্রমশ অত্যন্ত গুরুতর আকার নিচ্ছে। দৃশ্যদূষণের কথা মাথায় রেখে, পুজোর পর দ্রুত ফ্লেক্স খোলার নির্দেশ দেওয়া যেতেই পারে। কিন্তু কী ভাবে ফ্লেক্স ডিসপোজ় করা যাবে, তার এখনও পর্যন্ত কোনও সমাধান নেই। পরিবেশবিদদের সঙ্গে আলোচনা করে উপায় দ্রুত বার করতে হবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version