বিগত কয়েকদিনে বৃষ্টিতে হাল আরও বেহাল হয়েছে বেলঘড়িয়া ফ্লাইওভারের। ফলে এই উড়ালপুলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও বেড়েছে ব্যাপকভাবে। এই ফ্লাইওভার কল্যাণী এক্সপ্রেস ওয়ে হয়ে বিটি রোড থেকে যশোর রোডকে এয়ারপোর্ট সংলগ্ন বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযোগ করে। বিটি রোড নিকটবর্তী বেলঘড়িয়া ফ্লাইওভারে ওঠার রাস্তায় ৪ ইঞ্চি গভীর একটি গর্ত রয়েছে। এই গর্তে বৃষ্টির জল জমলে গভীরতা বোঝা যায় না। ফলে যে কোনও সময়ে বড়সড় দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে পারে গাড়িচালকরা, এমনটাই দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় দোকানদার বিজন ভট্টাচার্য বলেন, ‘বেলঘড়িয়া ফ্লাইওভারের উপর থাকা এই গর্তটি প্রায় দেড়মাসের বেশি পুরনো। জুলাই মাসের মাঝামাঝি এই গর্ত এখানে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকেই তা মেরামতির জন্য কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। এরপর ঘনঘন বৃষ্টিপাতের কারণে এই গর্ত আরও চওড়া হয়েছে।’ স্থানীয়দের দাবি, বৃষ্টি থেমে গেলেও গর্তে জল জমে থাকছে। ফলে শ্যামবাজার, ডানলপ, বিারটি, সোদপুর, এয়ারপোর্ট বা কল্যাণীর দিকে যাওয়া গাড়িগুলিকে সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এই গর্তের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে, এমনকী গাড়িও খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকিই নয়, বেলঘড়িয়া ফ্লাইওভারের বেহাল দশার কারণে কমছে ট্রাফিকের গতিও। ডানলপ ও এয়ারপোর্ট, উভয়দিকের পর্যটকদেরই দীর্ঘক্ষণ যানযটে নাকাল হতে হচ্ছে। বরানগরের বাসিন্দা পেশা ফ্যাশন ডিজাইনার সুরঞ্জনা বসু বলেন, ‘সাধারণ এই ফ্লাইওভার পেরতে ২ মিনিটের বেশি সময় লাগার কথা নয়। সেখানে বেহাল দশার কারণে ১৫ মিনিট সময় লাগছে।’ পুজোর আগে আদৌ এই ফ্লাইওভার মেরামত করা হবে কি না, সেই ধন্দে রয়েছে স্থানীয়রা।
কবে মুক্তি মিলবে এই বেহাল দশা থেকে? কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের কামারহাটি পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা বেলঘড়িয়া ফ্লাইওভারে গিয়ে পরিস্থিতির তদারকি করেছেন। ইতিমধ্যেই পূর্ত দফতরকে এ কথা জানানো হয়েছে। পূর্ত দফতরের তরফে দ্রুত মেরামতি শুরু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।’