ব্যাঙ্কে টাকা রেখেও স্বস্তিতে নেই সাধারণ মানুষ! প্রতারকদের জন্য উড়েছে রাতের ঘুম। একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব প্রায় এক লাখ টাকা। এদিকে মেয়ের বিয়ের জন্য অনেক কষ্ঠে টাকা জমিয়ে ব্যাঙ্কে রেখেছিলেন প্রবীণ। সেই টাকা রাতারাতি গায়েব হয়ে যাওয়ায় রীতিমতো হাপুস নয়নে কাঁদছেন তিনি।

ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা এক নম্বর ব্লকের আগর গ্রামের। এই গ্রামের কৃষক পরিবারের সদস্য রণজিৎ রায়, অভিজিৎ রায়, অনিল রায়, অজিত রায়। তাঁদের দাবি, গত শুক্রবার তাঁদের মোবাইলে মেসেজ আসে। দশ হাজার করে কয়েক দফায় টাকা তোলা হয়েছে তাঁদের পাঁচ ভাইয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে। সেখানে লেখা ‘AEPS Cash Withdrawal’। এই টাকা কাটার খবরে রীতিমতো কপালে হাত পড়ে তাঁদের।

Aadhaar Biometric Fraud : বায়োমেট্রিক জাল করে টাকা লোপাট, চোপড়ায় গ্রেফতার ৩
রণজিৎ রায় বলেন, “খড়ার স্টেট ব্যাঙ্কে টাকা রেখেছিলাম। মেয়ের বিয়ের জন্য টাকা রেখেছিলাম। টাকা তুলতে গিয়ে দেখি একটি টাকাও নেই।” রায় পরিবারের অন্যান্য প্রতারিত সদস্যরাও ব্যাঙ্কের সঙ্গে কথা বললে তাঁদের তৎক্ষনাৎ পুলিশে অভিযোগ জানানোর কথা বলা হয়। ইতিমধ্যেই তাঁদের পরিবারের তরফে জিডি করা হয়েছে।

অজিত রায়ের কথায়, “আমরা সমস্ত ভাই মিলে এক বছর আগে জমি রেজিস্ট্রি করতে গিয়েছিলাম। সেই সময়ই আমাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট জাল করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছি।”

Aadhaar Biometric Lock Fraud : ‘বায়োমেট্রিক লক’-এর নামেও Aadhaar প্রতারণা! নতুন ফাঁদের হদিশ
প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরেই আধার কার্ড প্রতারণা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ‘আধার এন্যাবল্‌ড পেমেন্ট সিস্টেম’-এর মাধ্যমে আধার কার্ড ও বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট জাল করে সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একগুচ্ছ অভিযোগ জমা পড়েছে।

টলিউডের এক অভিনেত্রীও সম্প্রতি এই প্রতারণা চক্রের শিকার হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কী ভাবে নিজেদের অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে চলেছেন সাধারণ মানুষ?
Aadhaar Biometric Fraud : ফের বায়োমেট্রিক প্রতারণার ‘ছোবল’! অ্যাকাউন্ট থেকে কষ্টের টাকা উধাও রাজ্যের ব্যবসায়ীর
সাইবার বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানিয়েছিলেন, আধারের ওয়েবসাইটে গিয়ে যদি বায়োমেট্রিক আধার লক করা যায় সেক্ষেত্রে প্রতারকদের হাত থেকে বাঁচা অনেকাংশে সম্ভব হবে। কিন্তু, দেখা যাচ্ছে এই পন্থাও পুরোপুরি সুরক্ষিত নন।কারণ সম্প্রতি AEPS আনলক থাকা সত্ত্বেও ব্যাঙ্ক থেকে টাকা গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। অবিলম্বে এই চক্রের হোতাদের গ্রেফতার করা হোক, চাইছেন প্রতারিতরা। ইতিমধ্যেই অভিযোগগুলির উপর ভিত্তি করে যাবতীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version