ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বলেন, ‘আমি নওশাদকে জঙ্গি বলেছিলাম বলে আমার নাম মানহানির মামলা করেছে। আজকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে বলছি, জঙ্গিদের নায়ক এই নওশাদ। ওঁর নেতৃ্ত্বে আমাদের দেশের জওয়ান ও সেনাবাহিনীর উপর গুলি চালানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর উপর জঙ্গিরা ছাড়া আর কেউ গুলি চালায় না। ১১ জুলাই ভাঙড়ের কাঁঠালিয়া হাইস্কুলে সেটাই হয়েছে। নওশাদের মতো অপদার্থরা জঙ্গি নেতা। যে সেনাবাহিনী জীবন দিয়ে দেশ রক্ষা করে, তাঁদের উপর ওঁরা গুলি চালায়।’
সওকত আরও বলেন, ‘ফুরফুরা শরিফকে ঢাল করে ভাঙড়ের মাটিকে রক্তাক্ত করার চেষ্টা করছে নওশাদ সিদ্দিকিরা। বাংলার সংখ্যালঘুদের এই বাস্তবতা বুঝতে হবে। আপনাদের সন্তানকে মৌলবাদীদের নেতা বানাবেন না ধর্ম নিরপেক্ষ শক্তির নেতা বানাবেন, তা আপনাদের ভেবে দেখতে হবে… নওশাদ বিজেপির দালাল। সে একটা কালসাপ। ২০২৬ সালের নির্বাচনে ও যাতে এখান থেকে হুগলিতে চলে যায়, ভাঙড়ের মানুষকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’
সওকত মোল্লার বক্তব্যের পালটা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন নওশাদ। ISF বিধায়ক বলেন, ‘অবাঞ্ছিত মন্তব্য করে সংবাদ শিরোনামে থাকতে চায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহধন্য হয়ে থাকতে চায়। এরাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পদ। একজন বিধায়ক হয়ে আরেক বিধায়ককে অসংসদীয় কথা বলছে। কিন্তু বাংলায় কোনও প্রতিবাদ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি আইনের দ্বারস্থ হব। আইনি লড়াই চলবে। আমি কোনও অনৈতিক কাজে যুক্ত থাকলে পুলিশ পদক্ষেপ করুক। কিন্তু আমরা দেশ গঠনের কাডে এসেছি।’
উল্লেখ্য, সওকত ও নওশাদের সংঘাত নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই দুই নেতার মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত চলছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের সঙ্গে সওকত ও নওশাদের সংঘাত তুঙ্গে ওঠে। একাধিকবার তৃণমূল ও আইএসএফ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সংঘাত আরও জোরাল হয়। এই নিয়ে সংঘাত আরও বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।
