এই সময়: এক সরকারি চিকিৎসকের বদলি এবং এক স্বাস্থ্যকর্তার নিয়োগ সংক্রান্ত জল্পনাকে ঘিরে বেনজির উথালপাথাল শুরু হয়েছে তৃণমূলের চিকিৎসক সংগঠনে। বলা ভালো, শাসকদলপন্থী চিকিৎসকদের মধ্যে। একদিকে চিকিৎসক তথা তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেনের ‘আবেগঘন’ ফেসবুক পোস্ট, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একান্ত বিশ্বাসভাজন চিকিৎসক শ্যামাপদ দাসকে নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনে পোস্টার পড়া, দুটি বিষয় নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা।

প্রভাবশালী বলে পরিচিত এই চিকিৎসকই রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বহুচর্চিত ‘নর্থবেঙ্গল লবি’র হোতা বলে অভিযোগ। এই লবির অঙ্গুলিহেলনেই সরকারি চিকিৎসকদের বদলি নিয়ন্ত্রিত হয় বলেও দাবি। ফলে, পোস্টার পড়ার ঘটনায় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মনে করছেন সরকারি চিকিৎসকরা।

South Point School Students : পরিবারের দাবি চিকিৎসায় গাফিলতি, ‘সেফ ড্রাগে’ নীলাদ্রির মৃত্যু নিয়ে হতবাক চিকিৎসক
বুধবার সকাল হতেই স্বাস্থ্যভবনের দেওয়ালে দেখা যায় বেনামি ওই পোস্টার। সেখানে শ্যামাপদ দাসের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, সরকারি চিকিৎসকদের বদলি করার ক্ষমতা বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মরত ওই অর্থোপেডিক চিকিৎসকের অঙ্গুলিহেলনের উপর নির্ভর করে। স্বাভাবিক ভাবেই ওই পোস্টার নিয়ে গুঞ্জন শুরু হতে দেরি হয়নি স্বাস্থ্য মহলে। জানা যায়নি, কে বা কারা ওই পোস্টার সাঁটিয়েছেন স্বাস্থ্যভবনের দেওয়ালে।

যদিও সূত্রের দাবি, শাসক দল প্রভাবিত চিকিৎসকদের একাংশই রয়েছেন এর নেপথ্যে। বিশেষ করে সেই লবি, যাঁদের সম্প্রতি কপাল পুড়েছে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ক্ষমতার অলিন্দে। ওই সূত্রের দাবি, গত সোমবার একটি আদেশনামায় তৃণমূলের চিকিৎসক সেলের নেতা শান্তনু সেনকে সরিয়ে একদিকে যেমন আরজি করের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান করে দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা সুদীপ্ত রায়কে, অন্যদিকে তেমনই আবার সুদীপ্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত আরজি করের অপসারিত অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকেও ফিরিয়ে আনা হয়েছে পুরোনো পদে।

Civic Volunteer Treatment : রোগীর চিকিৎসায় সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিডিয়ো ভাইরাল! হইচই রাজ্যজুড়ে
জল্পনা, এ সবই হয়েছে শ্যামাপদর ‘নির্দেশে’। আবার তাঁর ইশারাতেই স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তার নিয়োগ ঝুলে রয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে। এই জল্পনার মধ্যেই শান্তনুর একটি ফেসবুক পোস্ট এদিন প্রকাশ্যে আসে। বুধবারের সেই পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন, ‘জীবনে যদি বারবার চোখ নয়, শুধু কান দিয়ে দেখে, একতরফা ভাবে শুধু একজনের কথা শুনে কেউ সিদ্ধান্ত নেয়, তা হলে ভুল সিদ্ধান্ত হতে বাধ্য।’

তিনি আরও লেখেন, ‘হে ঈশ্বর, আমি যেন সব সময় আমার সহযোদ্ধাদের, যাঁরা নিঃস্বার্থভাবে, প্রাণপাত করে, সব সময় আমার সঙ্গে থাকে, তাদের সঠিক মূল্যায়ন করতে পারি এবং আমি যেন কারও কথায় তাদের প্রতি কোন অবিচার করে না ফেলি।’ ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করছে, শান্তনুর এই মন্তব্যের অন্তর্নিহিত অর্থ হলো— শ্যামাপদের কথায় মুখ্যমন্ত্রী কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন!

RG Kar Hospital : পদ গেল তৃণমূলের শান্তনুর! আরজিকরে অধ্যক্ষ পদে সন্দীপ ঘোষই
যদিও এ নিয়ে শান্তনুর যুক্তি, ‘আমি একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ। মিশনের ছাত্র। আমি নিজের জীবনের উপলব্ধির কথা বলেছি। আমার সঙ্গে যারা প্রতিনিয়ত থাকে নিঃস্বার্থ ভাবে, তাঁরা যদি কোনও ভাবে আমার কারণে দুঃখ পায়, তা হলে সেটা আমার পক্ষেই ভালো নয়।’ এদিকে শ্যামাপদও তাঁর সরকারি চিকিৎসকদের বদলির ক্ষেত্রে কোনও ভূমিকা নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কোনও সরকারি স্বাস্থ্যকর্তা নই। মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসা করি। উনি কিছু জানতে চাইলে উত্তর দিই। তবে নিজে থেকে পরামর্শ দিতে যাই না।’

এদিনের ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে একাধিক চিকিৎসক সংগঠন। সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাস বলেন, ‘পোস্টার দেওয়ার এই ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে, তা চিহ্নিত করা দরকার। কারণ, এই ঘটনা সার্বিক ভাবে স্বাস্থ্য দপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।’ পাশাপাশি বদলি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদেরও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

https://whatsapp.com/channel/0029Va9zh58Gk1Fko2WtDl1A



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version