এই সময়: একটা ডায়েরি। আর সেটাই কি রেশন দুর্নীতির শিখরে পৌঁছনোর চাবিকাঠি দিতে পারে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের? রেশন দুর্নীতিতে ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমানকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) গ্রেফতার করার পর তাঁর একটি ডায়েরি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। সেখানে বেশ কয়েক জনের নাম পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

প্রত্যেকের নামের পাশে লেখা— সাধারণ মানুষের জন্য সরকারের বরাদ্দ চাল-আটা কাকে, কোথায় পাঠানো হয়েছে, তার সবিস্তার তথ্য। সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সের ইডি অফিসে বাকিবুরকে সেই ব্যক্তিদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে ইডি সূত্রে খবর।

এর পাশাপাশি, বাকিবুরের দুবাই-যোগ আরও স্পষ্ট হচ্ছে। তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, বাকিবুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুবাইয়ে তাঁর দু’টি ফ্ল্যাটের হদিশ মিলেছে, প্রতিটি ফ্ল্যাটের দাম ৮ কোটি টাকা। নদিয়ার কোতওয়ালি, ধুবুলিয়া এবং নবদ্বীপ থানায় বাকিবুর রহমানের নামে তিনটি এফআইআর হওয়ার পরেও পুলিশ কেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেনি, সেটাও প্রশ্ন ইডি-র।

অভিযোগ, বাকিবুরের মিল থেকে সরকারি স্ট্যাম্প এবং সিল দেওয়া আটার বস্তা পৌঁছে যেত কয়েক জন ব্যবসায়ীর গোডাউনে। ইতিমধ্যেই তল্লাশি অভিযানের সময়ে ওই ব্যবসায়ীদের কয়েক জনের সঙ্গে তদন্তকারীরা কথা বলেছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রত্যেক মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ে সরকারি রেশন সামগ্রী কম দামে ওই ব্যবসায়ীদের গোডাউনে পাঠানো হতো।

Ration Card : রেশন দুর্নীতির তদন্তে গ্রেফতার বাকিবুর, ফ্ল্যাট থেকে প্রচুর নথি উদ্ধার ED-র
ওই চক্রে সরকারি আধিকারিক থেকে শুরু করে নদিয়ার কয়েক জন ব্যবসায়ী জড়িত রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন বাকিবুরের আরও বেশি সম্পত্তির হদিশ মিলছে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, ওই সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক বাকিবুর একা নন— তাঁর আত্মীয়দের নামেও রয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি।

ইডি-র দাবি, এখনও পর্যন্ত ৫০ কোটি টাকার লেনদেনের হদিশ মিলেছে। সেই হিসেব-নিকেশ অনুপুঙ্খ ভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version