দু্র্নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন। কলকাতা হাইকোর্টে বসে তাঁর একাধিক রায় আলোড়ন ফেলে দিয়েছে গোটা দেশে। কোর্টরুমের ১৭ নম্বর কক্ষে বসে তাঁর করা একের পর এক মন্তব্য নিয়ে চর্চার শেষ নেই। কারও কাছে তিনি ‘ভগবান’, কেউ তাঁকে কটাক্ষ করেন ‘অরণ্যদেব’ বলে। কিন্তু দুর্গাপুজোর দিনগুলোয় আদ্যোপান্ত বাঙালি বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুজোয় সময় কাটানো থেকে প্রিয় খাওয়াদাওয়া, সব বিষয়ে অকপট জবাব দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি।

পুজো মানেই নিখাদ আড্ডা

বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে পুজোর সংজ্ঞা কী? টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিচারপতি বলেন, ‘আমরা কাছে পুজো মানে নিখাদ ও নির্ভেজাল আড্ডা। পুজোর সময় খাওয়াদাওয়ার কোনও ঠিক থাকে না। কখন খাচ্ছি, কী খাচ্ছি কোনও ঠিক নেই। মাঝে একটু ঘুমিয়ে নিই। পরের দিন থেকে আবার আড্ডা। কলকাতা হাইকোর্টে ছুটি পড়েছে। তবে কলকাতা হাইকোর্ট এখনও শেষ হয়নি, দিব্যি জীবিত রয়েছে। ভাইফোঁটার পর আবার খুলবে। আমাদের তো এই একটাই বড় ছুটি।’

বিচারপতির পুজো প্ল্যানিং

বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘এই ছুটির সময় বিভিন্ন বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাব। তাঁরাও আমার বাড়িতে আসবেন। সারা বছর তাঁদের সঙ্গে দেখা করার খুব একটা সময় পাই না। তাঁদের সঙ্গে এটা একটা পুনর্মিলন। অবসর সময়ে বইও পড়ব। পুরনো ও নতুন গান শুনব। আমার প্রিয় গায়ক হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।’

Justice Abhijit Ganguly : ‘পুজোর সময় আমিও চাই না…’, নির্দেশ দিয়ে ‘মত পরিবর্তন’ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের
থিম না সাবেকিয়ানা, বিচারপতির পছন্দ কী?

বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় কি ঠাকুর দেখতে বেরোন? থিমের পুজো না সাবেকি মণ্ডপ, তাঁর পছন্দ কোনটা? এই প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘ঠাকুর দেখতে পরিবারের সঙ্গে খুব কম বেরোই। সাবেকি ও থিম দুটোই ভালো লাগে। থিমের মধ্যে কী অসম্ভব পরিকল্পনা ও পরিশ্রম থাকে। কিছু কিছু থিম শিল্পীরা কী দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলেন! সারা পৃথিবীতে এটা দুর্লভ। কী অসাধারণ সব প্যান্ডেল তৈরি হয়। থিম থেকে কত ধরনের লোকশিল্প উঠে আসে। শিল্পীদের কুর্ণিশ জানাতে ও প্রণাম করতে ইচ্ছে করে। ঠাকুর দেখার সেইভাবে কোনও পরিকল্পনা থাকে না। তবে কোনও মণ্ডপে দাঁড়িয়ে ঢাকের তালে আরতি দেখতে ভালো লাগে।’

বিচারপতির প্রিয় খাবার কী?

বেসরকারি টেলিভিশনের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর প্রিয় খাবার নিয়েও মুখ খুলেছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খাওয়াদাওয়ার বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে বিধিনিষেধ ভাঙাতেই আনন্দ। তাই ভেঙে ফেলি। তারপর অসুস্থ হয়ে পড়লে ওষুধ খেয়ে সুস্থ হই। দুর্গাপুজোর মধ্যে বিধিনিষেধ ভাঙা চলে। বিরিয়ানি খাওয়া শুরু করে দিয়েছি। অষ্টমীতে আমাদের বাড়িতে নিরামিষ পদ খাওয়ার প্রথা রয়েছে। লুচি, বেগুন ভাজা, ছোলার ডাল দিয়ে পেটপুজো হবে। আর নবমীতে পাতে থাকবে পাঠার ঝোল। এটা খেতেই হবে। এটা না খেলে অষ্টমী-নবমী হল না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version