তাপস প্রামাণিক

রাত জেগে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা করছেন? কিন্তু সবাই ঠাকুর দেখতে গেলে বাড়ির পোষ্যটিকে দেখবে কে? পোষ্যকে বাড়িতে একা ফেলে যাওয়াটাও ঝুঁকিপূর্ণ। ওরা একা থাকতে একেবারেই পছন্দ করে না। আবার পোষ্যকে নিয়ে ঠাকুর দেখতে যাওয়াও ঝক্কির। পুজো হপিংয়ের প্রস্তুতির মধ্যেই প্রিয় পোষ্যদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পশুপ্রেমীরা।

বাঙালি বাড়িতে পোষ্য রাখার চল থাকলেও ক্রেশের সংখ্যা সে ভাবে বাড়েনি। বাড়ির পোষা কুকুর রাখার জন্যে কলকাতা এবং তার আশপাশে হাতেগোনা কয়েকটা ডগ ক্রেশ তৈরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু পুজোর সময়ে জায়গা পাওয়া দুষ্কর। কুকুর রাখার জায়গা যদি বা মেলে, বেড়াল এবং পাখি রাখার মতো ক্রেশ নেই। দমদমের পাতিপুকুর ফাঁড়ি এলাকার মীনাক্ষী মিত্র জানাচ্ছেন, বেশ কয়েক বছর হলো বাড়িতে বেড়াল এবং মুরগি পুষছেন।

তাদের জন্যে বাড়ি ছেড়ে বেরোতেই পারেন না। কালেভদ্রে কখনও বাইরে গেলে পোষ্যদের দেখাশোনার জন্যে স্বামীকে রেখে যান। মীনাক্ষীর কথায়, ‘করোনার সময়ে দমদম রেলব্রিজের সামনে থেকে মুরগিটাকে কুড়িয়ে পেয়েছিলাম। তখন ও খুব ছোট। এখন ওর আড়াই বছর বয়স। ওর প্রতি মায়া জন্মে গিয়েছে। কারও কাছে রেখে যেতে পারি না।’

লাভ অ্যান্ড কেয়ার ফর অ্যানিম্যালস-এর কর্মকর্তা সুস্মিতা রায় জানান, বাড়ির পোষা কুকুর রাখার জন্যে শহরাঞ্চলে কিছু ক্রেশ তৈরি হয়েছে। সেখানে দিনে গড়ে ৩০০-৪০০ টাকা খরচ। তবে সেগুলির মান তত ভালো নয়। অনেক ক্রেশে গাদাগাদি করে কুকুর রাখা হলে অসুস্থও হয়ে পড়ে। তাঁর কথায়, ‘কুকুরদের জন্যে তাও কিছু ব্যবস্থা আছে, কিন্তু বেড়াল বা পাখিদের জন্যে সেটাও নেই।’

কে বেশি ‘পাগল’, খোঁজ না রেখে সুস্থ করেন মোসলেম
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, কলকাতার অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর অনিন্দিতা ভদ্র বলেন, ‘ক্রেশে কুকুর রেখে এলে তাদের উপরে স্ট্রেস তৈরি হয়। বিদেশে এ নিয়ে বেশ কিছু স্টাডি হয়েছে। সে জন্যে ক্রেশের কেয়ারিং সিস্টেমটা কেমন, সেটা দেখে নেওয়া উচিত।’

কী ভাবে বাড়িতে পোষ্যদের রেখে যাবেন
— পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও জল রাখুন
— হালকা মিউজিক চালিয়ে রাখুন
— টিভি চালিয়ে রাখতে পারেন
— কিছু খেলনা রেখে দিন
— কোনও নির্ভরযোগ্য লোককে দায়িত্ব দিন
— ঘর পরিষ্কার রাখতে হবে
— বেল্ট বা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখবেন না



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version