শান্তিনিকেতনের ইউনেস্কো স্বীকৃতি মেলার পর ফলকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম নেই কেন? বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাল সকাল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিলেন তিনি। এর মধ্যে নতুন ফলকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম উল্লেখিত না হলে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আন্দোলন শুরু হবে।

কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী?

মুখ্যমন্ত্রীর এদিন জানান, শান্তিনিকেতন ইউনেস্কো স্বীকৃতি পেয়ে থাকলে, সেটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্যেই পেয়েছে। তিনিই শান্তিনিকেতনকে গড়ে তুলেছিলেন। ওঁর নাম সরিয়ে দিল? পুজো ছিল বলে আমরা বিষয়টি নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করিনি। বিষয়টি নিয়ে এবার রাজ্যের শাসক দলের তরফে প্রতিবাদ হবে বলে জানান তিনি।

শুক্রবার থেকেই প্রতিবাদ

কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক পদক্ষেপ নিয়েও এদিন প্রতিবাদে সরব হন তিনি। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই ফলক না সরানো হয় এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম যুক্ত ফলক না বসানো হয়, তাহলে শুক্রবার সকাল দশটা থেকে বিশ্বভারতীতে আন্দোলন শুরু হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি বুকে নিয়ে আন্দোলন শুরু করবেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কো-র স্বীকৃতি পায় শান্তিনিকেতন। এরপর রবীন্দ্রভবন, উপাসনা গৃহ, গৌরপ্রাঙ্গণ ইত্যাদি জায়গায় শ্বেতপাথরের ফলক বসানোর ব্যবস্থা করা হয় বিশ্বভারতীর তরফে। স্বীকৃতির উদযাপনের জন্যেই এই ফলক লাগানোর ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু, ফলক লাগানোর পর দেখা যায় সেগুলিতে ‘ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ লেখার নীচে নাম রয়েছে আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর। এই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, যিনি শান্তিনিকেতনের রূপকার তাঁর নামটাই থাকল না ফলকে।

ফলকে রবীন্দ্রনাথ বাদ কেন, দেখবে রাজভবন
ফলক নিয়ে বিতর্ক

ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট বিচলিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং প্রাক্তনীদের একাংশ। ইউনিভার্সিটি ফ্যাকাল্টি অ্যাসোসিয়েশন (ভিবিউফা) সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে বিষয়টি সম্বন্ধে নালিশ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনীরাও। প্রাক্তনী নুরুল হক জানান, নিজের নামের বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্যেই এরকম ফলক লাগানো হয়েছে। গুরুদেবের নাম এতে নেই এটা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই ফলকের কাছে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে মুখে কুলুপ এঁটেছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জনসংযোগ আধিকারিক মহুয়া বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে কিছু জানতে রাজি হননি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version