এই সময়: হয়নি টিবি। যক্ষ্মার কোনও পরীক্ষাতেই পজ়িটিভ রিপোর্ট আসেনি। তবু সন্দেহের বশে রোগীকে যক্ষ্মার ওষুধ দেন চিকিৎসক। সেই ওষুধ খেয়ে শারীরিক অবস্থার ঘোর অবনতি হলেও নিজের প্রেসক্রিপশনে ওই চিকিৎসক অনড় ছিলেন বলে অভিযোগ। আরও মারাত্মক অভিযোগ হল, এতেই লিভার ফেল করে বছর তিপ্পান্নর সরকারি কর্মী ওই ব্যক্তি শেষে মারা যান।

এবার সেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত চিকিৎসককে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২৫ লাখ টাকা ও বার্ষিক ৬% হিসেবে সাড়ে সাত বছরের সুদ দেওয়ার নির্দেশ দিল সম্প্রতি জাতীয় ক্রেতা সুরক্ষা আদালত। ঘটনার সূত্রপাত ২০১৫ সালের জুনে। জ্বর, কাশি আর বমির সমস্যা নিয়ে সরকারি হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট হিমাংশুকুমার দাস দেখাতে গিয়েছিলেন বাঘাযতীন এলাকার একটি পলিক্লিনিকে। সেখানে তাঁর চিকিৎসা করেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ কবীর দত্ত।

অভিযোগ, তিনি প্রথমে সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক দেন। কিন্তু কাজ না হওয়ায় নানা পরীক্ষার পর একসময়ে টিবি-র জন্য থুতু পরীক্ষা ও মান্টু টেস্টের পরামর্শ দেন। অভিযোগ, সেই টেস্টগুলির রিপোর্ট নেগেটিভ আসা সত্ত্বেও টিবি-র ওষুধ রিফাম্পিসিন ও আইসোনিয়াজ়িড দেন। অভিযোগ, তাতেই অ্যাকিউট লিভার ফেলিয়োরের শিকার হন হিমাংশু।

ওই রোগীর স্ত্রী কণিকা দাস বলেন, ‘ওষুধগুলো সপ্তাহখানেক চলার পরেই দেখলাম স্বামীর স্বাস্থ্য আরও ভেঙে পড়েছে। গোটা শরীর হলুদ হয়ে গেল, প্রস্রাবের রং হয়ে উঠলো গাঢ় কালচে। ডাক্তারবাবুকে সে কথা বলার পরেও উনি ওষুধগুলো চালিয়ে যেতে বলেন।’ তিনি জানান, কিছু দিন এমনটা চলার পর এমন অবস্থা হয় যে হিমাংশুকে প্রথমে কেপিসি হাসপাতালে ও পরে এনআরএস ঘুরে পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

এবং অভিযোগ, সব জায়গার চিকিৎসকরাই অবাক হয়ে যান, কেন ওই রোগীকে টিবি-র ওষুধ দেওয়া হয়েছে, যেখানে যক্ষ্মার চিহ্নই নেই শরীরে!
দিনসাতেক হাসপাতালে কাটানোর পর ২৯ সেপ্টেম্বর মৃত্যু হয় হিমাংশুর। তাঁর ডেথ সার্টিফিকেটে টিবি-র ওষুধে লিভার ও মাল্টি-অর্গ্যান ফেলিয়োরের কথা লেখা হয় মৃত্যুর কারণ হিসেবে। অসহায় কণিকা বুঝতে পারেন, চিকিৎসায় গাফিলতির বলি হয়েছেন স্বামী।

এর বিচার পেতে তিনি যোগাযোগ করেন রোগীস্বার্থে কাজ করা পিপল ফর বেটার ট্রিটমেন্ট (পিবিটি) নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে। পিবিটি-র সভাপতি, অনাবাসী চিকিৎসক কুণাল সাহা বলেন, ‘কণিকা দাসের পাশে দাঁড়াতে ক্রেতাসুরক্ষা আদালতে মামলার পরামর্শ দিয়েছিলাম। বহু লড়াইয়ের পর জাতীয় ক্রেতাসুরক্ষা আদালত ওঁদের পক্ষে রায় দিয়েছে। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলেও ওই চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের আবেদন করা আছে। দেখা যাক, তাতে কী রায় হয়।’

Heart Attack Symptoms : ১ ঘণ্টা থমকে হৃদস্পন্দন! ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকের রোগীকে বাঁচিয়ে মিরাকল চিকিৎসকদের
দোষী সাব্যস্ত চিকিৎসক অবশ্য জাতীয় ক্রেতাসুরক্ষা আদালতকে জানিয়েছেন, তাঁর চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি হয়নি। প্রথমে কো-অ্যামক্লিক্লেভ ও মক্সিফ্লক্সাসিন এবং পরে সেফিউরক্সিম অ্যান্টিবায়োটিকে সংক্রমণে রাশ টানা যায়নি বলে তিনি টিবি-র পরীক্ষা করাতে বলেছিলেন। যদিও তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

যেহেতু তিনি তাঁর ৩০ বছরের লম্বা ডাক্তারি কেরিয়ারে নেগেটিভ রিপোর্টের এমন একাধিক টিবি রোগী দেখেছেন, তাই এই রোগীরও টিবি-র চিকিৎসা শুরু করেন উপসর্গের ভিত্তিতে। তাঁর দাবি, যেহেতু ওই রোগীর লিভার একেবারে সুস্থ ছিল এবং যক্ষ্মার যে দু’টি ওষুধ তিনি লিখেছিলেন প্রেসক্রিপশনে, তাতে লিভারের তেমন ক্ষতি হয় না, তাই হিমাংশুর লিভার ফেলিয়োরের নেপথ্যে হয়তো অন্য কারণ থাকতে পারে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version