মধ্যরাতে রক্তাক্ত অবস্থায় বোলপুর থানার সামনে পড়ে অনুব্রত মণ্ডলের ভাই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল বীরভূম জেলায়। অনুব্রত মণ্ডল জেলবন্দি থাকার সুযোগ নিয়েই তাঁকে মারধরের ঘটনা বলে অভিযোগ। অনুব্রতর ভাইকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অনুব্রতর ভাই সুমিত মণ্ডলকে বোলপুর থানার বাইরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। একইসঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করেছেন তিনি।

ঠিক কী ঘটনা?

গোরু পাচারকাণ্ডে গ্রেফতারির পর দীর্ঘদিন ধরে তিহাড় জেলে বন্দি বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। অনুব্রতর অনুপস্থিতিতে তার ভাই সুমিত মণ্ডলকে মারধরের অভিযোগ উঠল দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুব্রতর নীচুপট্টির বাড়ি সংলগ্ন বোলপুরের বাড়িপুকুরের কাছে প্রতিমা বিসর্জনের সময় সুমিতকে মারধর করে এলাকার দুই যুবক।

বেধড়ক মারধরের কারণে রক্তাক্ত হয় সুমিত। তাঁর গোটা জামা রক্তে ভিজে যায়। কোনওরকমে সেই অবস্থায় বোলপুর থানায় আসেন তিনি। থানার বাইরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করেছেন তিনি। একইসঙ্গে তাঁর চিকিৎসায় পুলিশ কোনও বন্দোবস্ত করেনি বলে অভিযোগ সুমিতের।

Nadia News : বিসর্জনের শোভাযাত্রায় BJP কর্মীকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ, ধুন্ধুমার শান্তিপুরে
ঠিক কী অভিযোগ কেষ্টর ভাইয়ের?

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুমিত বলেন, ‘পাড়ার দুই যুবক আমাকে বেধড়ক মারধর করে। কোনওরকমে আমি থানায় এসে পৌঁছই। থানায় এসে সবটা জানানো সত্ত্বেও পুলিশ আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি৷ আমাকে মারধর করা হয়েছে। আর যেহেতু আমার দাদা তিহাড় জেলে বন্দি, সেই কারণে পুলিশ অসহযোগিতা করেছে। আমি প্রচণ্ড অসুস্থবোধ করছি ৷ বিসর্জনের সময় কামরুল আলি ও আকাশ কুণ্ডু আমাকে আক্রমণ করে। আমাকে মেরে মাথা ফাঁটিয়ে দেয়। আমার দাদা আজ জেলে বন্দি। সেই কারণে মারধর করা হল।’

তীব্র কটাক্ষ বিজেপির

কেষ্টর ভাইয়ের মার খাওয়ার ঘটনাকে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। ফেসবুকে পোস্ট করে এই নিয়ে কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা। তিনি লেখেন, ‘একসময় যিনি বলতেন পুলিশকে বোমা মারুন, তাঁর ভাই সুমিত মণ্ডল আক্রান্ত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় বোলপুর থানাতে পড়ে রয়েছেন। পুলিশকে অনুরোধ সত্ত্বেও তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না। ভুলে গেলে চলবে না পুলিশমন্ত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই বোলপুরে বা অন্যান্য জেলাতে যারা তৃণমূল পার্টিটা করছেন, একটু বুঝে-শুনে ভেবে-চিন্তে করুন। কারণ নেত্রী কখন যে আপনার মাথার উপর থেকে হাত তুলে নেবেন ধরতেই পারবেন না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version