রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী ও বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে গ্রেফতার করেছে ED। বালুকে গ্রেফতারির পর একাধিক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। একদিকে যেমন বিপুল টাকার লেনদেনের কথা সামনে এসেছে। তেমনই নাম জড়িয়েছে মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের। উঠে এসেছে একাধিক ভুয়ো সংস্থার নামও। ED-র তরফে দাবি করা হয়েছে, রেশন দুর্নীতির টাকা ব্যবহারের জন্য খোলা ভুয়ো সংস্থার ডিরেক্টর ছিলেন মন্ত্রীর মেয়ে প্রিয়দর্শিনী মল্লিক। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলার সময় এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন বালু-কন্যা।

ভুয়ো সংস্থা নিয়ে মুখ খুললেন প্রিয়দর্শিনী

আশুতোষ কলেজে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে অধ্যাপনার পাশাপাশি রাজ্য উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদে রয়েছেন জ্যোতিপ্রিয়র মেয়ে। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রশ্নের জবাবে প্রিয়দর্শিনী বলেন, ‘আমি কোনও সংস্থার ডিরেক্টর ছিলাম না, একথা বলব না। আমার বাবা কেউকেটা বলে আমাকে যদি চেপে ধরা হয়, তাহলে তদন্তের কোনও শেষ হবে না। শেষে এই কোম্পানি যাঁর কাছে ছিল সে বলতে পারবে। এক সময় কোম্পানির ডিরেক্টর আমি ছিলাম। কিন্তু সেই কোম্পানি আমার হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। আমার কোনও আর্থিক লাভও হয়নি।’

Jyotipriya Mallick : ‘উনি যাঁদের নাম বলছেন…’, জ্যোতিপ্রিয় প্রসঙ্গে বিস্ফোরক লকেট
ভুয়ো সংস্থায় নগদে রেশন দুর্নীতির ৮ কোটি টাকা জমা পড়েছে বলে আদালতে দাবি করেছে ED। সেই প্রশ্নে সাফাই দিয়েছেন প্রিয়দর্শিনী। তিনি বলেন, ‘আমরা আগে যিনি কোম্পানির ডিরেক্টর ছিলেন, তাঁর সময় এই টাকা জমা পড়েছে। আমার সময়ে পড়েনি। কোনও কোম্পানিও ভুয়ো বলে তো শুরু হয় না। কেউ যেচে ভুয়ো কোম্পানির ডিরেক্টরও হয় না। একাধিক ব্যবসার জন্য কোম্পানি খোলা হয়েছিল। ভবিষ্যত তখন অজানা ছিল। কোম্পানির কার্যক্রম নির্দিষ্ট ছিল, সেটা আমার কাছে পরিষ্কার ছিল বলে দায়িত্ব নিয়েছিলাম।’ ঘুরিয়ে কি কারও দিকে আঙুল তুললেন প্রিয়দর্শিনী? তা এখনও তিনি স্পষ্ট করে বলেননি।

৩ কোটি টাকা নিয়ে জবাব

জ্যোতিপ্রিয় কন্যার অ্যাকাউন্টে ৩ কোটি টাকা নগদ জমা পড়েছিল বলে দাবি ED-র। বিরোধীরা বলছে, টিউশন পড়িয়ে এই বিপুল টাকা আয় করা অসম্ভব। সেই নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এই বিতর্কের ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রিয়দর্শিনী। তিনি বলেন, ‘কোন এইট পাশ লোক এই কথা বলেছে আমি জানি না। আমি নিজেই বিস্মিত! আমার সম্পত্তি, কৃষি জমি থেকে রাজস্ব আসে। কখনও বেশি আসে, কখনও আবার আসে না। সেটাকে কেউ বেআইনি টাকা হিসেবে দেখাতে চাইছেন। আমার অ্যাকাউন্টে যে টাকা রয়েছে, তার সম্পূর্ণ হিসাব রয়েছে। আমি আয়করও দিয়েছি। সেই কারণে বিচলিত হচ্ছি না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version