জাতীয় স্তরে ইন্ডিয়া জোটের ভিত শক্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা হলেও সুর তাল কাটছে বঙ্গে। আগামী ১৮ ডিসেম্বর থেকে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক শুরু হওয়ার কথা থাকলেও রাজ্যের প্রথম সারির নেতৃত্বরা হাঁটছেন ভিন্ন পথে। একে অপরকে আক্রমণেও কমতি নেই। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য নিয়ে কটাক্ষ করলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

কী বলেছিলেন মমতা?

মঙ্গলবার শিলিগুড়ির সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আগামী দিনে বাংলাই দেশকে নেতৃত্ব দেবে।’ ভাষণে গোখলের উক্তির সুরে বাংলার নেতৃত্বের কথা তুলে ধরেন তিনি। সেই নেতৃত্বের প্রতিফলন কী জাতীয় স্তরের রাজনীতিতে পড়বে? কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথ দেখাবে বাংলা? পক্ষান্তরে লড়াইয়ের পথ দেখাবে তৃণমূল কংগ্রেস ও সর্বোপরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? এরকমটাই বোঝাতে চেয়েছেন তিনি। উঠেছে প্রশ্ন।

অধীর কী বললেন?

পালটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করতে একবিন্দু সময় নষ্ট করেননি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘উনি আসলে যখন যেমন তখন তেমন। দিদির কাছে আমাদের এই বিষয়টা শেখা দরকার।’ অধীর চৌধুরীর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাওয়া যখন যেমন তখন তেমন পদক্ষেপ নেন। তাঁর কথায়, ‘আমরা যা করি সেটা হচ্ছে কী, যা সাদা তাকে সাদা বলি, যা কালো তাকে কালো বলি। দিদির অনেক রকমের শিল্প আছে, দিদি সেগুলো জানে।’

একদিকে, রাজ্যের পাওনা গন্ডা পাওয়ার আশায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বারস্থ হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, একই সময়ে তাঁর বিরোধী জোটের বৈঠকেও যোগ দেওয়ার কথা। সব মিলিয়ে আগামী সপ্তাহে তপ্ত থাকবে দিল্লির রাজনীতি। তার বঙ্গে একে অপরের প্রতি কাদা ছোড়াছুড়ি ইন্ডিয়া জোটের সমীকরণ কী বদলে দিতে পারে? আলোচনা রাজনৈতিক মহলে।

Mamata Banerjee : ডিসেম্বরেই দিল্লি সফর মমতার, বকেয়া নিয়ে মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা
তিন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর কংগ্রেসকেই হারের জন্য দায়ী করেছে তৃণমূলের হাই কমান্ড। মমতা থেকে অভিষেক সকলেই এই ফলাফলকে কংগ্রেসের হার হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। পাশাপাশি, কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের ডাকা বৈঠক নিয়ে তিনি কিছু জানেন না, তাঁকে জানানো হয়নি বলে জানিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমত অবস্থায় ফের কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর আক্রমণ তৃণমূল এবং কংগ্রেসের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version