রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের গ্রেফতারির পর উত্তর ২৪ পরগনার সাংগঠনিক দায়িত্ব কার হাতে যাবে? কয়েকদিন ধরেই তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা ছিল। দোরগোড়ায় লোকসভা নির্বাচন। উত্তর ২৪ পরগনায় রাজ্য শাসক দলের অন্যতম ‘শক্ত খুঁটি’ ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় ওরফে বালু। গোটা জেলা তাঁর হাতের তালুর মতো চেনা ছিল। সেক্ষেত্রে লোকসভা ভোটের আগে জেলা সংগঠনকে চাঙ্গা করতে কী ‘দাওয়াই’ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? সেই দিকে তাকিয়ে ছিল সব মহল।

বৃহস্পতিবার দেগঙ্গায় দলীয় কর্মিসভার মঞ্চ থেকে একটি কোর কমিটি গঠন করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর ২৪ পরগনায় সাংগঠনিক জেলাগুলির দায়িত্ব দেওয়া হয় এক এক জন হেভিওয়েট নেতাকে। প্রতি দশ দিন অন্তর কোর কমিটি রিপোর্ট জমা দেবে, স্পষ্ট জানান মুখ্যমন্ত্রী।

কারা কারা থাকলেন কোর কমিটিতে?
এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে নির্মল ঘোষকে। বসিরহাট ও দমদমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুজিত বোসকে। ব্যারকপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পার্থ ভৌমিককে এবং হাবড়া সংলগ্ন এলাকা দেখবেন নারায়ণ গোস্বামী। এছাড়াও কমিটিতে থাকছেন শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়, রথিন ঘোষ, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, তাপস রায়, বীণা মণ্ডল, নুরুল ইসলাম, মমতাবালা ঠাকুর, তাপস দাসগুপ্ত সহ আরও অন্যান্য নেতৃত্ব।

কেউ কেউ নিজেরা কেউকেটা হয়ে গেছেন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

যেহেতু দোরগোড়ায় লোকসভা নির্বাচন তাই কোনও সাংসদদের এই কোর কমিটিতে রাখা হয়নি বলে জানান তৃণমূল সুপ্রিমো। সকলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সাংসদরা কাজ করবেন, বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতিতে বীরভূমেও একটি কোর কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘চৈতন্যদেবের সার্থক উত্তরাধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’ বললেন ব্রাত্য বসু

দলীয় নেতৃত্বের উদ্দেশে বার্তা
দলের কেউ যাতে শৃঙ্খলা না ভাঙেন সেই জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ নিজেরা কেউকেটা হয়ে গেছেন। আমাকে এতটা খাটতে হচ্ছে তা মনে রাখছেন না। এটা মাথায় রাখতে হবে আমরা এমনি এমনি ক্ষমতায় আসিনি।’

Mamata Banerjee: আজ চাকলায় দিদি, কর্মিসভায় কী বার্তা? তাকিয়ে দল
অর্থাৎ কোনও রকম দলীয় কোন্দল যে বরদাস্ত করা হবে না, তা ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি নবীন প্রবীণ দ্বন্দ্ব নিয়েও উল্লেখযোগ্য বার্তা দিয়েছেন তিনি। দলের জন্য নবীন এবং প্রবীণ দুই গোষ্ঠীকেই প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন দলনেত্রী। তৃণমূলের অন্দরে চলতে থাকা আদি-নব্য দ্বন্দ্বের মাঝেই তৃণমূল সুপ্রিমোর এই বার্তা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version