তৃণমূল নেতার বাবার বিরুদ্ধে মধুচক্র চালানোর অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। এই নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগও করেছিলেন একাধিকবার। কিন্তু, কাজের কাজ কিছু হয়নি তাতে। বরং নিজের প্রভাব খাটানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল। এবার সেই তৃণমূল নেতার বাবাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ায়।

চাপড়ায় তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের বাবার বিরুদ্ধে মধুচক্র চালানোর অভিযোগ উঠেছিল দীর্ঘদিন ধরেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চাপড়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য কৌশিক ঘোষের বাবা বিশ্বজিৎ ঘোষ দীর্ঘদিন ধরেই নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে মধুচক্র চালানোর অভিযোগও ওঠে।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সরব হলেও তাঁদের কণ্ঠ রোধ করার অভিযোগও উঠেছে। কিন্তু, খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসে পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে চাপড়া থানার পুলিশ একটি নির্দিষ্ট ডেরাতে হানা দেয়। গ্রেফতার করা হয় চার যুবক সহ ২ মহিলাকে। তাঁদের থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি মোটরবাইক। ধৃতদের নাম বিশ্বজিৎ ঘোষ,সেতু মণ্ডল, আব্দুল সালাম মণ্ডল এবং বাবলু মণ্ডল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চাপড়া থানা এলাকার সুভাষপল্লী পাড়া এলাকায় এই অসাধু চক্র চলত।

অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাঁদের হুমকি দেওয়া হত। এলাকার পঞ্চায়েত সদস্যের বাবার বিরুদ্ধে কেউ কেউ সাহস করে কথা বলতে গেলেও তাঁদের থামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে তাঁর গ্রেফতারিতে খুশির স্থানীয় বাসিন্দারা।

এদিকে এই ঘটনায় সরব বিরোধীরা। স্থানীয় বিজেপি নেতাদের দাবি, এই নেতার বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। সেক্ষেত্রে আগে কেন পদক্ষেপ করা হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁদের কথায়, ‘রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে। তার উপর যদি রাজ্য শাসক দলের নেতাদের ঘনিষ্ঠজনরাই এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকে সেক্ষেত্রে আর কী বলা যায়! লোকসভা নির্বাচনে মানুষ এর জবাব দেবে।’

এদিকে যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। এই বিষয়ে চাপড়া ব্লক তৃণমূল সভাপতি শুকদেব ব্রহ্ম জানান, এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। কেউ যদি ব্যক্তিগত ভাবে কোনও ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকেন সেক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। আইন আইনের পথেই চলবে। এই ঘটনার দায়িত্ব দল নেবে না।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version