‘ফর্ম ইজ টেমপোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট’, ক্রিকেটের দুনিয়ায় আখছার এই শব্দ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু, শুধু কি ক্রিকেট? সাফল্য ধরে রাখা সমস্ত ক্ষেত্রেই অত্যন্ত জরুরি। কোচবিহার সুনীতি অ্যাকাডেমি বছরের পর বছর ধরে সাফল্যের রেকর্ড ধরে রেখেছে। এই বারও উচ্চ মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় জায়গা ধরে রেখেছেন এই স্কুলের দুই জন।প্রতীচি রায় তালুকদার মেধাতালিকায় রাজ্যে চতুর্থ ( মেয়েদের মধ্যে প্রথম) এবং মনস্বী চন্দ ষষ্ঠ হয়েছেন। স্কুলের এই সাফল্যে খুশির হাওয়া পড়ুয়া, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক থেকে শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে। স্কুলের টিচার ইন চার্জ মৌমিতা রায় বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের ভালো ফল হলে আমাদেরও ভালো লাগে। ওরা সবাই ভালো, মেধাবী। শিক্ষিকারাও ওদের সারাবছর গাইড করেছেন। ফের একবার মেধাতালিকায় আমাদের স্কুলের নাম আসায় আমরা খুশি।’

রাজ আমলে ১৮৮১ সালে মহারানি সুনীতি দেবীর নামে এই স্কুলটি তৈরি হয়েছিল। কোচবিহার শহরে চারটি সরকারি স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে মেয়েদের এই স্কুল বরাবরই ভালো ফল করে। মাধ্যমিকের তুলনায় উচ্চ মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় বেশি জায়গা করে নেয় এই স্কুলের ছাত্রীরা।

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের উচ্চ মাধ্যমিকে এই স্কুলের দুই ছাত্রী মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়েছিলেন। এরপর ২০২০ সালে এই স্কুলেরই ছাত্রী সঞ্জিবনী দেবনাথ মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়েছিলেন। ২০২২ সালের উচ্চ মাধ্যমিকে এই স্কুলেরই ছাত্রী পূর্বালী দাস মেধা তালিকায় পঞ্চম স্থান দখল করেন। গত ২০২৩ সালের উচ্চ মাধ্যমিকে এই স্কুলেরই স্বাগতা চক্রবর্তী দশম স্থান লাভ করেন।

এরপর এই বার প্রতীচিরায় তালুকদার মেধাতালিকায় রাজ্যে চতুর্থ ( মেয়েদের মধ্যে প্রথম) এবং মনস্বী চন্দ ষষ্ঠ হয়েছেন। প্রতীচি বিজ্ঞান নিয়ে ৪৯৩ নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় চতুর্থ হয়েছেন। অপরদিকে মনস্বী কলাবিভাগে ৪৯১ নম্বর পেয়েছেন। প্রতীচি জানান, কয়েক নম্বরের জন্য মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় জায়গা করতে পারেননি তিনি। গৃহশিক্ষক থাকলেও তাঁর সাফল্যের নেপথ্যে স্কুলের শিক্ষিকাদের ভূমিকা অপরিসীম।

উচ্চ মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় মোট ৫৮ পরীক্ষার্থী, তাক লাগিয়েছে হুগলি, দেখুন সম্পূর্ণ মেরিট লিস্ট

মনস্বী জানান, ছোটবেলা থেকেই এই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন তিনি। এককথায় বলা যেতে পারে, টানা পাঁচ বছর ধরে উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফলাফলের রেকর্ড ধরে রেখেছে কোচবিহারের সুনীতি অ্যাকাডেমি। শিক্ষাকারা জানান, পড়ুয়াদের যা যা সাহায্য লাগে তা তাঁদের তরফে করা হয়ে থাকে। প্রত্যেক পড়ুয়া ব্যক্তিগত স্তরে কঠোর পরিশ্রম করে বলে গর্ব প্রকাশ করেন শিক্ষিকারা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version