অরূপকুমার পাল, ঝাড়গ্রাম
একটা সিনেমা। অন্যটা বাস্তব। অক্ষয় কুমার এবং রাধিকা আপ্তের মুখ্য চরিত্রে সেলুলয়েডের পর্দায় তৈরি হয়েছিল ‘প্যাড ম্যান’। আর বাস্তবে কাজের নিরিখে এলাকার মানুষের কাছে তাঁর পরিচিতি ‘প্যাড ওম্যান’ হিসেবে। তিনি হলেন সোনামণি টুডু। ঝাড়গ্রাম লোকসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী।‘প্যাড ম্যান’ সিনেমা তৈরির পিছনে ছিল তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরের বাসিন্দা অরুণাচলম মুরুগানাথনের কাজ। আর্থিক ভাবে দুর্বল হলেও তিনি ছিলেন মানসিক ভাবে সবল। নিজের স্ত্রীর পিরিয়ড কালে স্যানিটারি প্যাডের বিকল্প হিসেবে অপরিচ্ছন্ন-অস্বাস্থ্যকর কাপড় ব্যবহার দেখে চমকে উঠেছিলেন।

দেশের দুঃস্থ মহিলাদের এই করুণ অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে আইআইটি মাদ্রাজের সহযোগিতায় তিনি একটি স্যানিটারি প্যাড বানানোর যন্ত্র বানিয়ে ফেলেছিলেন কম খরচে। যা এখন দেশের প্রতিটি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা ওই যন্ত্র দিয়ে কম দামে তৈরি করছেন স্যানিটারি প্যাড।

শুধু স্যানিটারি প্যাড তৈরি করলেই তো হবে না। তা ব্যবহারের জন্য প্রত্যন্ত এলাকার মহিলাদের মধ্যে স্বাস্থ্য বোধ এবং সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে বলে মনে করেন ঝাড়গ্রামের বামপ্রার্থী সোনামণি। ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ঘাটশিলা, মুসাবনি, জামশেদপুর, পটকা ব্লকের প্রত্যন্ত এলাকায় পিরিয়ডের সময়ে অপরিচ্ছন্ন-অস্বাস্থ্যকর কাপড় ব্যবহারের কুফল নিয়ে সচেতনতা শুরু করেন তিনি।

এ কাজ করতে করতে মহিলাদের কাছে ‘প্যাড ওম্যান’ পরিচিতি হয় তাঁর। ভোটপ্রচারের মাঝে সময় পেলে আসনপানি গ্রামে গিয়ে সচেতনতার প্রচারকরছেন তিনি। ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের কডিহা গ্রামে জন্ম সোনামণির। ঘাটশিলা বিডিএসএল কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন পাশ করে চাইবাসা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাইকোলজিতে এমএ পাশ করে ২০১৬ সালে। ২০১৩ সালে দলদলি গ্রামসভার নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।

তারপর ওই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় জল প্রকল্প ও স্যানিটারি ন্যাপকিন নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। তারপর ২০১৫ সালে পুরুলিয়া জেলার বান্দোয়ান থানার কুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আসনপানি গ্রামের বাসিন্দা মনীষদেব টুডুর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তারপর ২০২৩ সালে গ্রাম পঞ্চায়েত ভোটে কুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে সিপিএমের প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন সোনামণি।

রেজ্জাকের পালস, প্রেসার মাপলেন বিজেপির অশোক

গ্রামে গ্রামে স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে দিয়ে ন্যাপকিন উৎপাদন এবং কম খরচে তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেন তিনি। সোনামণি বলেন, ‘একাজের জন্য অনেকে আমাকে প্যাড ওম্যান নাম দিয়েছেন। এটা আমার কাছে বড় প্রাপ্তি।’ পঁয়ত্রিশ বছরের সোনামণি টুডু হিন্দি, বাংলা ও সাঁওতালি ভাষায় বেশ সড়গড়। বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে কোথাও সাঁওতালি কোথাও বাংলা ও হিন্দিতে কথা বলছেন।

সোনামণি বলেন,‘এখন ভোট প্রচারে ব্যস্ত। তবুও প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচারে গিয়ে যে সব মহিলাদের জনস্বাস্থ্য সচেতনতা কম রয়েছে তাঁদের সময় পেলেই বলছি।’ তাঁর জনস্বাস্থ্য প্রচার নিয়ে তৃণমূল প্রার্থী কালীপদ সোরেন অবশ্য সোনামণিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। কালীপদ বলেন, ‘ভোট প্রচারের মাঝে তিনি যদি একাজ করেন তাতে ক্ষতি নেই। জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা খারাপ জিনিস নয়। তবে এটা যেন শুধু ভোট প্রচারে সীমাবদ্ধ না থাকে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version