ঘূর্ণিঝড় রিমেলের জেরে দুর্যোগের সাক্ষী থেকেছে কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা। রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এসে, এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে উঠে এলে ঘূর্ণিঝড় প্রসঙ্গ। অশোকনগরের সভার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর বলেন, প্রথমেই মা কালীকে প্রণাম জানাচ্ছি। তাঁর আশীর্বাদেই আমরা সকলে মিলে ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলা করেছি। ঘূর্ণিঝড়ের উপরে লাগাতার নজর রেখেছিল ভারত সরকার। আমিও লাগাতার যোগাযোগ রেখেছিলাম। আমাদের এনডিআরএফ ও বাকিরা ভালো কাজ করেছে। কেন্দ্রীয় সরকার সবদিক থেকে রাজ্য সরকারকে যতটা সম্ভব সাহায্য করছে।’এর আগেও অবশ্য রিমেল নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ঝড়ের রাতেই নিজের বাসভবনে রিমেল নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন নরেন্দ্র মোদী। সূত্রের খবর সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। রিমেল ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় কী কী বন্দোবস্ত করা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে কতটা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, সেই সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানতে চান মোদী। ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির তরফে সম্পূর্ণ রিপোর্ট দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীকে। আধিকারিকদের রাজভবনের সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

জানা গিয়েছে, সেই বৈঠকে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর দফতরের মুখ্য সচিব, ক্যাবিনেট সচিব এবং স্বরাষ্ট্র সচিব সহ বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ডিজি, আইএমডি-র সদস্য সচিব, ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির প্রতিনিধিও। প্রত্যেককেই ঘূর্ণিঝড়ের উপরে নজর রাখার নির্দেশ দেন তিনি। প্রধামন্ত্রী জানান, সাইক্লোনের ল্যান্ডফল নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক যাবতীয় মনিটরিং করে এরটি বিস্তারিত রিভিউ করবে। যে কোনও প্রয়োজনে যাবতীয় সহযোগিতা করা হবে কেন্দ্রীয় সরকারে পক্ষ থেকে। ঘূর্ণিঝড়ের পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য সব ধরনের সাহায্য করা হবে বলেও আশ্বাসবাণী দেন মোদী।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার রাতেই স্থলভাগে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় রিমেল। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয় দুর্যোগ। শহর কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলায় ভেঙে পেড় প্রচুর গাছ। কিছু কাঁচা বাড়ির চাল উড়ে যায়। দুর্যোগের জেরে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে যাঁরা ঘর হারিয়েছেন, যাঁদের ফসলের জমি নষ্ট হয়েছে এবং বাকি যা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, সকলের পাশে রাজ্য প্রশাসন ছিল, আছে এবং থাকবে। আমি কথা দিচ্ছি, আমার রাজ্যের কোনও মানুষকে আমি কষ্টে দিন কাটাতে দেব না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version