প্রাথমিকে নিয়োগের ৭৯৪ জনের নামের তালিকা (মেরিট লিস্ট) প্রকাশ করল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশেই এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। বৃহস্পতিবার এই তালিকা সামনে আসতেই মুখে হাসি ফোঁটে অনেক বেকার যুবক যুবতীর। প্রায় ১৫ বছর পর এই চাকরি পাওয়ার পথে অনেকেই। লিস্টে নাম দেখে আবেগে ভেসেছেন তাঁরা। সবার এখন একটাই আশা, তাড়াতাড়ি ‘জয়েনিং’ দিয়ে গোটা প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।প্রসঙ্গত, ২ মাসের মধ্যে ৮০০ প্রার্থীকে (হাইকোর্টে আবেদনকারী) চাকরি দিতে হবে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদকে আগেই এই নিয়ে নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। গত ২৫ এপ্রিল হাইকোর্টের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয় । ২০০৯ সাল থেকে ওই প্রার্থীরা নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন। ২০০৯-এ প্রাথমিকের নিয়োগে উত্তর ২৪ পরগনায় নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনা প্রাইমারি ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল। এই নিয়ে মামলা হয়। মামলার শুনানিতে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘কী চান? তদন্ত হোক? না বোর্ড চাকরি দেবে?’ কাউন্সিল জানায়, ‘আমরা চাকরি দিতে প্রস্তুত।’ তারপরেই শুরু হয় এই প্রক্রিয়া।

যেমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেই মতো আমরা সবটাই করছি

দেবব্রত সরকার, DPSC চেয়ারম্যান

নামের তালিকা_compressed_compressed (1)_compressed_1
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদ্য প্রকাশিত মেরিট লিস্টে নাম থাকা একাধিকজন বলছেন, ‘নাম দেখে সত্যিই আমরা খুশি। কতদিনে জয়েনিং লেটার দেয়, তা নিয়ে একটু চিন্তায় আছি।’ উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ডিআই (মাধ্যমিক) রমেশ ভুঁইঞাকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে DPSC-র চেয়ারম্য়ানই যা বলার বলতে পারবেন।’ এ ব্যাপারে জানতে এই সময় ডিজিটাল-এর পক্ষ থেকে ফোন করা হয়েছিল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান দেবব্রত সরকারকে। তিনি বলেন, ‘আমরা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী মেরিট লিস্ট প্রকাশ করেছি। যেমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেই মতো আমরা সবটাই করছি।’ ‘অ্যাপয়নমেন্ট লেটার’ পেতে কত সময় লাগবে? তাঁর উত্তর, ‘মেরিট লিস্টের পর আমরা এবার প্যানেল তৈরি করব। তা কমিশনার অব স্কুল এডুকেশনকে পাঠানো হবে। তিনি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার পরেই আমরা অ্যাপোয়নমেন্ট দিতে পারব। এক্ষেত্রে যেমন নির্দেশ রয়েছে তেমনই হবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘আমাদের কাছে নির্দিষ্ট সময় অবধি যতজন আবেদনকারী এসেছিলেন তাঁদের নামেরই তালিকা বের হয়েছে।’

ফুড এসআই পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ, সরকারি কর্তা সহ ২ জনকে গ্রেফতার সিআইডির
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে প্রাথমিক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল। পরে তা নিয়ে নিয়ে বিস্তর অভিযোগ ওঠে। এই বছরের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত যাঁরা হাইকোর্টে মামলা করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে চাকরি দিতে হবে। মামলাকারীদের নথি যাচাইয়ের পর প্রস্তুত করতে হবে তালিকা। সেই তালিকা থেকেই চাকরি দিতে হবে। নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। একাধিক আইনি জটিলতার পর অবশেষে চাকরি পাচ্ছেন প্রায় ৮০০ জন।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version