এই সময়, শিলিগুড়ি: ছিল ফাঁকা জমি, হয়ে গিয়েছে বহুতল! ছিল ঝাঁ-চকচকে হোটেল, হয়ে গিয়েছে ফাঁকা পোড়োবাড়ি! এ যেন একেবারেই হ য ব র ল! চিটফান্ড মালিকদের বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তি শিলিগুড়িতে ‘সিল’ করতে এসেছিলেন হাইকোর্ট নিযুক্ত আইনজীবী অরিন্দম দাস ও কেন্দ্রীয় সরকারের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্সের অফিসিয়াল লিক্যুইডেটর বিভাগের আধিকারিক গৌরীশঙ্কর লাহিড়ি। কিন্তু শিলিগুড়িতে পৌঁছে তাঁদের চোখ কপালে ওঠে।শিলিগুড়ির ভানুনগরে ‘অ্যানেক্স’ নামে একটি চিটফান্ডের তিন কাঠা জমি ছিল। সেই জমিতে গড়ে উঠেছে বহুতল। যিনি বহুতল গড়েছেন, তিনি সেখানেই থাকেন। নীচতলায় একটি বেসরকারি নার্সারি স্কুল চলে। জমির মূল মালিকের হদিশ নেই। বহুতলের মালিক সন্দীপ আগরওয়ালার দাবি, ‘অ্যানেক্সের মালিক গ্রেপ্তার হওয়ার পরে জমির মূল মালিক ফের আমার কাছে জমিটি বিক্রি করেন। তার পরে ব্যাঙ্ক ঋণ নিয়ে বহুতল তৈরি করি। জমির মিউটেশনও করানো হয়েছে। সমস্ত নথিপত্র ব্যাঙ্কে জমা রয়েছে।’

শিলিগুড়ি চা নিলাম কেন্দ্র লাগোয়া একটি হোটেল তৈরি হয়েছিল ‘জিবিসি’ চিটফান্ডের টাকায়। আদালত পদক্ষেপ করার পরে হোটেলে তালা দেওয়া হয়। কিন্তু এ দিন সেই সম্পত্তি পরখ করতে গিয়ে আদালতের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দেখেন, গোটা হোটেলটি একেবারে ফাঁকা। তোয়ালে-বিছানার চাদর, টুকিটাকি জিনিস তো বটেই, টিভি-এসি-ফ্রিজ এমনকী, রুমের আস্ত বেডগুলিই তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাত্তা নেই মালিকেরও।

কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী অরিন্দম দাস বলেন, ‘অদ্ভুত ব্যাপার! ২০১৪ সালেই হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, চিটফান্ডের জমি হাতবদল করা যাবে না। তার পরেও কী করে হাতবদল হয়ে বহুতল গড়ে উঠল? বিতর্কিত মালিকদের নথিপত্র হাইকোর্টে জমা করতে বলা হয়েছে।’ প্রধাননগরের বহুতল নিয়েও তাঁর বক্তব্য, ‘নিলাম করার জন্য হোটেলের তালা খুলে দেখা গেল ভিতরে কিছুই নেই! প্রধাননগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’

সারদা-রোজভ্যালির মতোই অ্যানেক্স নামে সংস্থাটি ২০০৯ সাল থেকে শিলিগুড়িতে চিটফান্ডের কারবার ফেঁদে বসে। প্রায় সাড়ে চারশো কোটি টাকার সংস্থাটি প্রতারণার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ। কিন্তু সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনের গ্রেপ্তারির পরে চিটফান্ড নিয়ে রাজ্য জুড়ে তোলপাড় শুরু হলে অ্যানেক্সের মালিক বেশ কিছু সম্পত্তি বেচে গা-ঢাকা দেন। পরে অবশ্য তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

একই অভিযোগ চিটফান্ড সংস্থা জিবিসি-র বিরুদ্ধেও। হাইকোর্ট আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এসপি তালুদারের নেতৃত্বে একটি কমিটি তৈরি করে দেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় ওই কমিটি হাইকোর্টের অনুমতি সাপেক্ষে বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি খতিয়ে দেখে ‘সিল’ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

Shankar Ghosh BJP : শিলিগুড়ির পার্কিং সমস্যায় উদ্বিগ্ন, পুরসভাকে অর্থ সাহায্য বিজেপি বিধায়কের

সম্পত্তিগুলির মূল্য নিধার্রণের পরে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়ার (সেবি) মাধ্যমে নিলাম করে প্রাপ্ত টাকা আমানতকারীদের মধ্যে বিলি করা হবে। কিন্তু সিল করার সময়েই বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির হাল দেখে মাথায় হাত আদালতের প্রতিনিধিদের। তবে বাকি ছয়টি সম্পত্তি অবশ্য কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় সিল করে দেওয়া হয়েছে।

অ্যানেক্স ইনভেস্টর অ্যান্ড এজেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত চক্রবর্তী বলেন, ‘চিটফান্ডটি বহু মানুষকে সর্বস্বান্ত করেছে। দ্রুত বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর ব্যবস্থা হোক।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed

Exit mobile version