জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের পুরুষ ফুটসল দলের জন্য ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস স্মরণীয় হয়ে থাকল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৪-১ গোলে গুঁড়িয়ে সাফ ফুটসল  চ্যাম্পিয়নশিপে ভারত রুপো নিশ্চিত করল। ২৬ জানুয়ারি সোমবার, ব্যাংককের হুয়া মাক ইনডোর স্টেডিয়ামে ভারতের হয়ে লালসওমপুইয়া (২৫’ও ৪০’) দু’টি গোল করেন। অন্যদিকে ভিনসেন্ট লালতলুয়াংজেলা (৬’) এবং নিখিল মালি (৩২’) ভারতের হয়ে একটি করে গোল করেন। পাকিস্তানের একমাত্র গোলদাতা আলি আগা (১৯’)। এটি এমন এক ম্যাচ ছিল যার ফলাফলের প্রভাব তিন দলের উপর ছিল – ভারত, পাকিস্তান এবং নেপাল। যাদের প্রত্যেকেরই রুপোর পদক জেতার সুযোগ ছিল। ভারত বা পাকিস্তানের জয় নিজ নিজ দলকে দ্বিতীয় স্থানে এনে দিত। তবে ম্যাচ ড্র হলে নেপাল রুপো পেয়ে যেত। 

Add Zee News as a Preferred Source

এদিন প্রথমার্ধের ২০ মিনিট যেমন ছিল

এদিন ভারত শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলে এবং তাদের উইং ব্যবহার করে পাকিস্তানের ডি-বক্সের মধ্যে নীচু সেন্টার পাস পাঠানোর চেষ্টা করছিল। এবং খুব শীঘ্রই তারা সেই গোলটি পেয়ে যায় যা তাদের স্নায়ুচাপ কিছুটা হলেও কমিয়ে দেয়। লালতলুয়াংজেলা প্রতিপক্ষের অর্ধে একটি আলগা বল নিয়ন্ত্রণ করে নিজেকে প্রস্তুত করেন এবং জালে শট মেরে ফুটসল টাইগার্সকে এগিয়ে দেন। এই গোল তাৎক্ষণিক ভাবে খেলার গতিপথ পরিবর্তন করে দেয়, কারণ পাকিস্তান সমতাসূচক গোলের সন্ধানে নামে। তবে ভারত এই সুযোগগুলি ব্যবহার করে পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে আঘাত হানার চেষ্টা করে। ম্যাচের ১২ মিনিটে মুহাম্মদ ইলহামের একটি প্রচেষ্টা ভারতের ডি-বক্সে আটকে যায়, এবং কে রোলুয়াহপুইয়া তাৎক্ষণিক ভাবে রিবাউন্ডটি ধরে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। প্রতিপক্ষের অর্ধে প্রবেশ করে তিনি তার ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট নেন, কিন্তু সেটি গোলরক্ষক ফিরিয়ে দেন। তবে পাকিস্তান এদিন কঠোর লড়াই করে এবং প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার এক মিনিটের কিছু বেশি সময় বাকি থাকতেই সমতা ফেরাতে সক্ষম হয়। জায়েদ উল্লাহ খান এক বুদ্ধিদীপ্ত থ্রু বল বাড়িয়ে দিয়ে বাঁ- দিক দিয়ে আলিকে আগাকে এগিয়ে দেন। তিনি প্রান্ত ধরে দ্রুত এগিয়ে যান এবং একটি সংকীর্ণ কোণ থেকে শট নেন, যা দূরের পোস্টে লেগে জালে জড়িয়ে যায়।

আরও পড়ুন: নিজের ঘরেই মুখ থুবড়ে পড়ল আয়োজক বাংলা! পঞ্জাব-চণ্ডীগড়ের ‘দাদাগিরি’তে পদকহীন লজ্জা

দ্বিতীয়ার্ধের ২০ মিনিট যেমন ছিল

বিরতিটা ভারতের জন্য সঠিক সময়েই এসেছিল, নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে ভারত নতুন উদ্যমে কোর্টে নামে। দ্বিতীয়ার্ধের একেবারে প্রথম মিনিটেই ভারত বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পায়। লালসাংকিমা ডেড-বল পজিশন থেকে শট নেওয়ার ভান করে বক্সের প্রান্তে থাকা মালিকে পাস দেন, যিনি শট নেন, কিন্তু তার প্রচেষ্টা ইঞ্চিখানেকের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। খেলা পুণরায় শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে ভারত আবার এগিয়ে যায়। লালসওমপুইয়া একটি ওভারহেড বলের পিছনে ছুটে যান এবং তার ডিফেন্ডারকে পাশ কাটিয়ে শট নিতে সক্ষম হন। তার শটটি আসিফ আহমেদ চৌধুরীর বুকে লেগে জালে ঢুকে যায়। ৩১ মিনিটে ভারতের গোলরক্ষক আলিফ রহমান মোল্লা পরপর দুটি দুর্দান্ত সেভ করে তাঁর দলকে এগিয়ে রাখেন। পাকিস্তানের হামজা নুসরত একটি বিপজ্জনক এলাকায় অনমোল অধিকারীর একটি পাস আটকে দেন, ফলে হাফিস এএম পাকিস্তানকে গোল থেকে বাঁচাতে নুসরতের জার্সি টেনে ধরে একটি কৌশলগত ফাউল করতে বাধ্য হন। ফ্রি-কিক থেকে নুসরাতের শটটি লক্ষ্যে ছিল, কিন্তু মোল্লা ভারতের গোলপোস্টের সামনে থেকে তা আটকে দেন। ফিরতি বলটি আবার নুসরাতের কাছেই আসে, যিনি আবারও চেষ্টা করেন, কিন্তু মোল্লা দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে দ্বিতীয়বার তা প্রতিহত করেন। অলৌকিকভাবে, বলটি তৃতীয়বারের মতো নুসরতের পায়ে আসে, এবং পাকিস্তানের অধিনায়ক এবার মোল্লার মাথার উপর দিয়ে বলটি জালে জড়ানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু ক্রসবারে লেগে তা ব্যর্থ হয়। তবে পাকিস্তান এই সুযোগটি হাতছাড়া করার জন্য আফসোস করবে। কারণ মাত্র কয়েক সেকেন্ড পরেই ভারত ব্যবধান দ্বিগুণ করে। রোলুয়াহপুইয়া ডান দিক থেকে তার ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলে শট নেন, কিন্তু তা সেভ হয়ে যায়। ফিরতি বলটি ছুটে আসা মালির কাছে আসে, যিনি ভলিতে বল জালে পাঠান। 

শেষে টানটান উত্তেজনা

দু’গোলে পিছিয়ে এবং স্টপ-ক্লকে মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি থাকায়, পাকিস্তান পাওয়ারপ্লে কৌশল অবলম্বন করে এবং তাদের গোলদাতা আলি আগাকে ফ্লাইং গোলরক্ষক হিসেবে মাঠে নামায়। ৩৯ মিনিটে এই কৌশল প্রায় সফল হয়ে যাচ্ছিল! তখন খেলার ধারার বিপরীতে নিয়মিত গোলরক্ষক মহম্মদ তাহিরের পরিবর্তে আগা বদলি হিসেবে মাঠে নামেন এবং চৌধুরী তাকে ডানদিক দিয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে বল বাড়িয়ে দেন। আগা এরপর সালারের সঙ্গে একটি পাস-বিনিময় করে শট নেন, কিন্তু মোল্লাহ সেটি বাঁচিয়ে দেন। ফুটসস টাইগার্স শেষ মিনিটে পাকিস্তানকে গোলশূন্য অবস্থায় পাল্টা আক্রমণে ধরে ফেলে ম্যাচটিকে সব ধরনের অনিশ্চয়তার ঊর্ধ্বে নিয়ে যায়। নিসার হুসেইনের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে লালসওমপুইয়া সেন্টার-লাইন পেরিয়ে কয়েক কদম এগিয়ে যান এবং শান্তভাবে ফাঁকা গোলে বলটি ঠেলে দিয়ে ভারতের জন্য ম্যাচ ও রুপো পদক নিশ্চিত করেন। ফিফা পুরুষ ফুটসল র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৩৩তম স্থানে থাকা ‘ফুটসাল টাইগার্স’ ৬ ম্যাচ থেকে ১১ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ করেছে। যা মলদ্বীপের (১০৯তম র‍্যাঙ্কিং) চেয়ে সাত পয়েন্ট কম। ১১৪তম র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা নেপাল ১১ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করলেও, গোল পার্থক্যে পিছিয়ে থাকার কারণে কেবল ব্রোঞ্জ পদকই অর্জন করতে পেরেছে।

আরও পড়ুন: বেতার বিহঙ্গী মাহভাশকে ‘ঠকিয়ে’ Bigg Boss খ্যাত সুন্দরী IPL হোস্টকে নিয়েই চাহালের চরম…

 

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের AppFacebookWhatsapp ChannelX (Twitter)YoutubeInstagram পেজ-চ্যানেল)

 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version