জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বলিউডের বিখ্যাত চিত্রনাট্যকার সেলিম খান মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ নিয়ে মুম্বইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এখন (Salim Khan Health Update)। সলমান খানের বাবা (Salman Khan’s Father) এখন ভেন্টিলেটর সাপোর্টে। সেলিমের নাম বিগত কয়েক দশক ধরে হিন্দি সিনেমা জুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়। সেলিম-জাভেদের শোলে এবং দিওয়ারের আগের পৃথিবীর গল্প আজও অনেকেরই অজানা। আরও এক খান ছিলেন যাঁর গল্প শুরু ভারতে ব্রিটিশ রাজের সময় থেকে। 

Add Zee News as a Preferred Source

আব্দুল রশিদ খান ও ইন্ডিয়ান ইম্পেরিয়াল পুলিস

সলমানের বাবা তো সেলিম খান, আর তাঁর বাবা কে ছিলেন? ভাইজানের ঠাকুরদা ছিলেন আব্দুল রশিদ খান। ব্রিটিশ শাসিত ভারতে ইন্ডিয়ান ইম্পেরিয়াল পুলিসের এক ঊর্ধ্বতন কর্তা ছিলেন তিনি। যে সময়ে ভারতীয়দের কর্তৃত্বপূর্ণ পদের উপর খুব কমই আস্থা রাখা হত, সেই সময়ে রশিদ ইন্দোরের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল পদে এসেছিলেন। যা নিঃসন্দেহে ইতিহাসের আঙিনায় বিরাট কৃতিত্বের। ইন্ডিয়ান ইম্পেরিয়াল পুলিস ছিল ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতের কেন্দ্রীয় পুলিস ব্যবস্থা, যা মূলত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ঔপনিবেশিক সরকারের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য গড়ে তোলা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: লর্ডসের ব্যালকনিতে জার্সি ওড়াবেন রাজকুমার! মার্চেই শুরু সৌরভের বায়োপিকের শ্যুটিং…

১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর ব্রিটিশরা ভারতের পুলিস ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করেছিল। পুলিস অ্যাক্ট ১৮৬১ অনুযায়ী আধুনিক ধাঁচের পুলিস কাঠামো চালু হয়েছিল। তাদের অধীনেই প্রদেশভিত্তিক পুলিস বাহিনী গড়ে ওঠে। যার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্রিটিশ সরকারের হাতে। উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সাধারণত ব্রিটিশ ছিলেন। ব্রিটেনে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমেই (আইসিএস-এর মতোই মর্যাদাপূর্ণ ধরা হত) নিয়োগ হত। পরের দিকে কিছু ভারতীয়কেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ঔপনিবেশিক প্রশাসনের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনী এবং ঊর্ধ্বতন পদগুলিতে মূলত ব্রিটিশ অফিসারদের আধিপত্য ছিল। একজন ভারতীয় সেখানে ডিআইজি পদে পৌঁছনোর জন্য প্রভাব, শৃঙ্খলা এবং ব্যতিক্রমী অসাধারণ সার্ভিস রেকর্ডই থাকতে হত। ইন্ডিয়ান ইম্পেরিয়াল পুলিস প্রায়ই ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিত। ফলে জাতীয়তাবাদীদের কাছে তাদের ভাবমূর্তি ছিল অত্যন্ত নেতিবাচক। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর ইন্ডিয়ান ইম্পেরিয়াল পুলিসের ভিত্তিতেই তৈরি হয় আধুনিক ইন্ডিয়ান পুলিস সার্ভিস (আইপিএস)। বর্তমান ভারতের সর্বভারতীয় পুলিস সার্ভিসের শিকড় এখানেই। বোঝাই যাচ্ছে যে রশিদ খানের সঙ্গে ভারতীয় ইতিহাসের কী নিবিড় যোগ।

সেলিমদের পারিবারিক ইতিহাস

সেলিম খানের পূর্বপুরুষরা কিন্তু ছিলেন পশতুন! পশতুন বা পাঠান হল মূলত আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী এক প্রাচীন ও বৃহত্তম ইরানীয় উপজাতীয় জাতিগোষ্ঠী। হাজার বছরের ইতিহাস সমৃদ্ধ এই যোদ্ধা জাতির। সেলিমের মতে, তাঁর বাবার বাবা ছিলেন আলাকোজাই পশতুন। যাঁরা ১৮০০ সালের মাঝামাঝি সময়ে আফগানিস্তান থেকে ভারতে চলে আসেন। ধারণা করা হয় যে তারা মধ্য ভারতে বসতি স্থাপনের আগে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর অশ্বারোহী বাহিনীতে কাজ করেছিলেন। লেখক জসিম খান তাঁর ‘বিইং সলমান’ বইয়ে লিখেছেন যে, সেলিম খানের পূর্বপুরুষরা ইউসুফজাই পশতুনদের আকুজাই উপজাতির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁরা ব্রিটিশ ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের (বর্তমানে খাইবার পাখতুনখোয়া, পাকিস্তান) সোয়াত উপত্যকার মালাকান্দ অঞ্চল থেকে এসেছিলেন। বলা হয় যে খান পরিবার পরে সরকারি চাকরির খোঁজ করে এবং শেষে ইন্দোরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেলিম খান কিন্তু মুম্বইয়ের নন। ১৯৩৫ সালে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে জন্মান তিনি। তাঁর প্রাথমিক জীবন দুঃখের মধ্য দিয়েই কেটেছে। মাত্র ন’বছর বয়সে তিনি তাঁর মা সিদ্দিকা বানো খানকে টিবি-তে হারান। ১৪ বছর বয়সে তিনি তাঁর বাবাকেও হারান। সেখান থেকে খ্যাতির শীর্ষে আসেন তিনি।

সেলিম ছিলেন দুর্দান্ত ক্রিকেটার

সেলিম কিন্তু পড়াশোনায় কখনই খুব ভালো ছিলেন না। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর, তাঁর বড় ভাইয়েরাই তাঁর দেখাশোনা করেছেন। সেলিম খেলাধুলায়, বিশেষ করে ক্রিকেটে অসাধারণ পারদর্শী ছিলেন। কলেজে তারকা ক্রিকেটার হওয়ার কারণেই তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করতে পেরেছিলেন। ওদিকে সেলিম আবার একজন প্রশিক্ষিত পাইলটও। সেই সময়কালেই সিনেমার প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়ে।

সেলিমের কলেজের বন্ধুরা প্রায়ই তাঁকে বলতেন যে, এরকম আসাধারণ ব্যক্তিত্ব এবং সুন্দর চেহারা যাঁর, তাঁর নিশ্চিত ভাবেই সিনেমায় চেষ্টা করা উচিত। সেলিমের বন্ধুরা তাঁকে অভিনেতা হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। সেলিম ঠিক সেটাই করেছিলেন। সেলিম ইন্দোর ছেড়ে মুম্বই চলে আসেন যেখানে। ‘অমরনাথ কী বারাত’ ছবিতে সাপোর্টিং রোলে অভিনয় করে কেরিয়ার শুরু করেন। এই চরিত্রের জন্য তিনি ৪০০ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। প্রায় ২৫টি ছবিতে কাজ করার পর সেলিম ১৯৬৯ সালে ‘দো ভাই’-এর গল্প লেখেন। এরপর তাঁকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। 

আরও পড়ুন: কলকাতায় নারী নিগ্রহ, শ্রেয়াংশীর ওপর নির্যাতনের বদলা নিতে জোট বেঁধেছেন ঋত্বিক-কৌশানী…

 

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের AppFacebookWhatsapp ChannelX (Twitter)YoutubeInstagram পেজ-চ্যানেল)





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version