এই সময়: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হস্টেলে যে কার্যত আইনের শাসন নেই, তা পুলিশের কাছে স্বীকার করে নিলেন ডিন অফ স্টুডেন্টস রজত রায়। বৃহস্পতিবার পুলিশের জেরার জবাবে রজত পুলিশকে হস্টেলে আইনশৃঙ্খলার ঘাটতির কথা জানান বলে দাবি লালবাজারের। শুধু তা-ই নয়, আইন থাকলেও তা কার্যকর করতে গেলে পড়ুয়ারাই যে বাধা দিতেন- বৃহস্পতিবার এমন তথ্যও পুলিশকে জানান তিনি। যাদবপুরের পড়ুয়া মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে এ দিন রজতকে ডেকে পাঠায় লালবাজার। সূত্রের খবর, ডিন অফ স্টুডেন্টসের কাজ কী, বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং রুখতে কী ব্যবস্থা রয়েছে, সিসি ক্যামেরা রয়েছে কি না, তা জানতে চান তদন্তকারীরা।

Jadavpur University Ragging Death Case : বিবস্ত্র করে ‘ইনট্রো’, দেড় ঘণ্টা নির্যাতন! যাদবপুরকাণ্ডে পুলিশি জেরায় হাড়হিম করা তথ্য
উত্তরে রজত জানান, সবই বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে। কোনও ক্ষেত্রে ফাঁক থেকে থাকলে তা শুধরে নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘটনার সেই রাতে ঠিক কী হয়েছিল, সে কথাও এ দিন তাঁর কাছ থেকে জানতে চায় পুলিশ। লালবাজার সূত্রের খবর, তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার দিন রাত ১০টা ৫ মিনিটে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে তাঁর কাছে। উল্টোদিক থেকে বলা হয়, এক পড়ুয়াকে কোনও বিশেষ দলের সদস্য হতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এরপর হস্টেল সুপারকে ফোন করেন বিষয়টি দেখার কথা বলেন তিনি। রাত ১২টা ৮ মিনিটে হস্টেলের সুপার গোটা ঘটনার কথা তাঁকে ফের জানান বলেও দাবি করেছেন রজত। ইতিমধ্যেই ওই হস্টেল সুপারকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

Ragging In Jadavpur University : মৃত্যুর রহস্য লুকিয়ে শেষ ১৫ মিনিটেই! ইন্ট্রোর নামে বিবস্ত্র করা হয় মৃত ছাত্রকে
লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, রজতের বয়ানের সঙ্গে সুপারের বয়ান কিছুটা হলেও আলাদা। সে কারণেই হস্টেল সুপারকে ফের তলব করা হতে পারে। পাশাপাশি এই ঘটনায় ধৃত পড়ুয়াদের বক্তব্যেও অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। যাদবপুরের প্রথম বর্ষের ওই পড়ুয়াকে ঘটনার পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যে ট্যাক্সিতে, তার চালককেও এ দিন ডেকে পাঠিয়েছিল পুলিশ।

Jadavpur University : হস্টেলের বাপই শেষ কথা বলে! জুনিয়ররা যেন প্রজা
তদন্তকারীদের ট্যাক্সিচালক জানিয়েছেন, আহত ওই ছাত্রের মাথা গামছা দিয়ে ঢাকা ছিল এবং মুখে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। জরুরি প্রয়োজনে একজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ডাকা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। চালকের বয়ান অনুযায়ী, সব মিলিয়ে গাড়িতে উঠেছিলেন মোট পাঁচ জন। গাড়ির পিছনে হেঁটেও কয়েকজন হাসপাতালে পৌঁছন বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন চালক। তাঁর এই বয়ান তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি লালবাজারের কর্তাদের।

এ দিনই আবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন হস্টেল সুপার দীপায়ন দত্ত। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘মেন হস্টেলে ছাদে র‍্যাগিং হতো। এতে প্রাক্তনীদের প্রভাব ছিল। নজরদারি করতে গেলে বাধা দেওয়া হতো। সব জেনেও ব্যবস্থা নেননি কর্তৃপক্ষ।’ তবে তাঁর ব্লকে পোশাক খুলে র‍্যাগিংয়ের খবর তিনি পাননি বলে দাবি তাঁর। সুপারের আরও দাবি, নতুন আবাসিক এলেই কথা বলার জন্য যেতাম। কর্তৃপক্ষের গোচরেও সবই ছিল। ফলে কোনও পড়ুয়া অভিযোগ করলে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন। তবে অত বড় হস্টেলে দু’জন সুপারের পক্ষে ৬০০ ছাত্রকে সামলানো সম্ভব নয় বলেই দাবি সুপারের।

এদিকে, এ দিনই কাশ্মীর থেকে কলকাতায় এসে পৌঁছেছেন যাদবপুরের ঘটনায় ধৃত পড়ুয়া মহম্মদ আরিফের দাদা মাহরুফ। তিনি বলেন, ‘ভাই কোনও অপরাধ করতে পারে না। ও যে গ্রেপ্তার হয়েছে সেটা আমরা জানতাম না। পুলিশ ফোন করেছিল। একটা নোটিসও দিয়েছিল। কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেটাও জানি না। এফআইআর কপিও আমাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। এখন কী করব কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version