ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেও মুখভার বঙ্গবাসীর। সেভাবে শীতের দেখা নেই। শীতপ্রেমী বাঙালি শীতের মুখ চেয়ে এখনও ঠায় অপেক্ষায়। আর শীতকাল মানে পিঠে-পুলি, নলেন গুড় আর জয়নগরের মোয়া। শীত সেভাবে না পড়ায় গুড় পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা ৷ ভাল টাটকা গুড়ের অভাব৷ ফলে মার খাচ্ছে মোয়া ব্যবসা৷ আর এই নিয়ে মোয়া ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা ক্রমেই বাড়ছে।

ভাল গুড়ের অভাব, পিঠে-পুলি-মোয়া মিলবে?

শীত মানেই সুস্বাদু জয়নগরের মোয়া। একইসঙ্গে পিঠে-পুলির জন্য প্রয়োজন হয় গুড়ের৷ শীতকাল এলেই বাঙলার ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় মোয়া, গুড়, গুড়ের তৈরি পাটালি, রসগোল্লা ইত্যাদি। কিন্তু বঙ্গে এখনও সেভাবে শীত না পড়ার কারণে মার খাচ্ছে মোয়া ব্যবসা। অনেকেই নিম্নমানের গুড় দিয়েই মোয়া তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ। কম দামে নিম্নমানের গুড় দিচ্ছেন বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, এমনটাই অভিযোগ। ফলে সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে প্রকৃত শিউলিদের।

শিউলি কারা?

প্রকৃত শিউলি, যাঁরা সারাবছর খেজুর গাছ রক্ষা ও পরিচর্যা করেন এবং শীতকাল এলে ঝুঁকি নিয়ে রস সংগ্রহ করেন তাঁরা ক্রমশ আর্থিক সমস্যার মধ্যে পড়ছেন৷ ফলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর জুড়েই ক্রমশ কমছে শিউলির সংখ্যা৷ তাঁদের দাবি, প্রয়োজনের তুলনায় খেজুর গাছের সংখ্যা কমছে ৷ বর্তমান প্রজন্ম চাষবাসে আর তেমন উৎসাহী নয়। সেই কারণে মার খাচ্ছে ব্যবসা।

জয়নগরের বাসিন্দা পেশায় শিউলি নিমাই সর্দার বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে খেজুর গাছ কাটা ও রস সংগ্রহ করি। বংশ পরম্পরায় আমরা এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সব মিলিয়ে আমাদের ৮০টা গাছ রয়েছে। আগে মুনাফা ভাল হত। কিন্তু এখন ঠান্ডা ঠিক করে পড়ছে না, সেই কারণে ভাল রস ও গুড় তৈরি হচ্ছে না। মুনাফা কমে যাচ্ছে। অনেকেই গাছ না কেটে নকল গুড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছে। কম দাম হওয়ায় সেই গুড় বিক্রিও হচ্ছে। আমাদের মনে হয় সরকারের এই দিকে একটু নজর দেওয়া উচিত।’

চিন্তামণি হালদার নামে আরেক শিউলি বলেন, ‘আমি ২০ বছর ধরে গাছ কাটি। শীত ভাল করে পড়লে উন্নতমানের গুড় পাওয়া যাবে। গুড় ভাল না হলে মোয়ার স্বাদও ভাল হবে না। এখন বাজারে মোয়া পাওয়া যায়, তার অধিকাংশ চিনি দিয়ে তৈরি। আমরা চাই শীত বেশি করে পড়ুক।’

কী বলছে কৃষি দফতর?

জয়নগরের সহ কৄষি অধিকর্তা মহাদেব বাড়ুই বলেন, ‘জয়নগরের মোয়ার আলাদা পরিচিতি রয়েছে। তার স্বাদ, গন্ধ ও গুণগত মান নির্ভর করে নলেন গুড়ের উপর। তা বজায় রাখা প্রয়োজনীয়। আমরা সেদিকে নজর দিচ্ছি। বেশ কিছু খেজুর গাছ লাগানোর পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version