এই সময়, কলকাতা, নয়াদিল্লি: ‘ইন্ডিয়া’ জোটের আসন সমঝোতা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস জানাল, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করার কোনও নির্দিষ্ট ডেডলাইন ঘোষণা সম্ভব নয়। তবে কংগ্রেস-ও দ্রুত সিট শেয়ারিং সম্পন্ন করতে চাইছে বলে দেশের গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টির তরফে জানানো হয়েছে শনিবার।

‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলগুলির সঙ্গে দ্রুত আসন সমঝোতার লক্ষ্যেই অশোক গেহলট, ভূপেশ বাঘেল, সলমন খুরশিদ, মুকুল ওয়াসনিক প্রমুখ নেতাদের নিয়ে দলের ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স কমিটি গড়েছিল কংগ্রেস হাইকমান্ড। শনিবার এই কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। তার পর মুকুল ওয়াসনিক দিল্লিতে বলেন, ‘আমরা সমস্ত বিষয়ের দ্রুত ফয়সালা করতে চাইছি। সামনেই ভোট। সে দিকে তাকিয়ে আমরা দ্রুত আসন সমঝোতা সেরে ফেলতে চাইছি। কিন্তু এই তারিখে এটা (সমঝোতা) সম্পন্ন হবে বা ওই তারিখে হবে, তা বলা সম্ভব নয়।’

কংগ্রেসের এই মনোভাবে খুব একটা সন্তুষ্ট নন তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, ‘যে কোনও সিদ্ধান্ত টাইম-বাউন্ড হওয়া উচিত। সে কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী ৩১ ডিসেম্বর ডেডলাইনের কথা বলেছেন। ওই তারিখের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা সম্পূর্ণ করে ফেলা বাঞ্ছনীয় বলে দলনেত্রী মনে করেছেন।’ বিজেপিকে রুখতে তৃণমূল ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই সিট-শেয়ারিং নিয়ে আলোচনা সম্পূর্ণ করার পক্ষপাতী বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

তৃণমূল এই অবস্থানে অনড় থাকলেও কংগ্রেসের অ্যালায়েন্স কমিটি প্রথমে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করতে চাইছে। তার পর ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমস্ত শরিক দলের সঙ্গেই আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ওয়াসনিক। বিধান ভবনের নেতাদের সঙ্গে ইতিমধ্যে একবার বৈঠক করেছেন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে। প্রদেশ কংগ্রেসের বাছাই করা নেতাদের সঙ্গে ফের বৈঠক করতে পারেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব।

প্রশ্ন উঠছে, সিট-শেয়ারিং নিয়ে ‘ইন্ডিয়া’র শরিক নেতৃত্বের সঙ্গে তা হলে কবে বৈঠক করবে কংগ্রেস? তৃণমূল-সহ জোটের প্রধান শরিক দলগুলির সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক প্রসঙ্গে ওয়াসনিক বলেন, ‘ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়া জোটের একাধিক বৈঠক হয়েছে। জোটে যে দলগুলি রয়েছে এবং যে রাজ্যে এই দলগুলির প্রভাব রয়েছে — সে সব দলের নেতৃত্বের সঙ্গেই আমরা বৈঠক করব।’ তবে কোন শরিক দলের নেতৃত্বের সঙ্গে কংগ্রেসের ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স কমিটি কবে বৈঠক করবে, এ দিন তা স্পষ্ট করেননি ওয়াসনিক। এ দিনই অবশ্য জম্মু ও কাশ্মীরের নেতা গুলাম আহমেদ মীরকে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব দিয়েছে কংগ্রেস হাইকমান্ড। মীর এখন এআইসিসি-র অন্যতম সাধারণ সম্পাদক। ঝাড়খণ্ডের সঙ্গে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বল্প পরিচিত এই নেতাকে কেন বাংলার দায়িত্ব দেওয়া হলো, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

এআইসিসি নেতৃত্ব ডেডলাইন নিয়ে নিশ্চয়তা দিতে না পারলেও তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও মনে করছেন, একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থীর লড়াই হলে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপির হার নিশ্চিত। মোদীও এ দিনই বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ৫০ শতাংশ ভোট ইভিএম-বন্দি করার টার্গেট ঠিক করে দিয়েছেন। সম্প্রতি শেষ হওয়া পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের ব্যাখ্যা, ‘পাঁচ রাজ্যের মধ্যে যে তিন রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করেছে, সেখানেও অ-বিজেপি দলগুলির মোট ভোট বিজেপির তুলনায় বেশি। ইন্ডিয়া জোটকে বিজেপি ভয় পাচ্ছে বলে ৫০ শতাংশ ভোটের গল্প দেওয়া হচ্ছে। এটা প্যানিক রিঅ্যাকশান। ইন্ডিয়া জোট হওয়া মানেই বিজেপি-বিরোধী ভোট এক হয়ে যাওয়া। একের বিরুদ্ধে একের লড়াইতে বিজেপি হেরে যাবে।’

Mamata Banerjee : রাজ্যে বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ‘অবশ্যই সম্ভব’, মমতার মুখে ‘হাত বাড়ালেই বন্ধু’
তৃণমূল ‘ইন্ডিয়া’ জোটের স্পিরিট ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু কংগ্রেস হাইকমান্ড ৩১ ডিসেম্বরের আগে আসন সমঝোতা নিয়ে গঠনমূলক পদক্ষেপ না করলে পশ্চিমবঙ্গে জোড়াফুল শিবির ‘ইন্ডিয়া’র ব্যানারে কোনও কর্মসূচির পথে যাবে না বলে দলের একাংশের বক্তব্য। বামেরা অবশ্য সূর্যকান্ত মিশ্রের নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়া’র প্রতিবাদ কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সংসদে শতাধিক এমপি-র সাসপেনশনের প্রতিবাদে এ দিন কলকাতায় ধর্মতলা থেকে এন্টালি পর্যন্ত মিছিল করেছে।

শুক্রবার দিল্লিতে এই ইস্যুতে ‘ইন্ডিয়া’র প্রতিবাদ কর্মসূচিতে রাহুলের পাশেই ছিলেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। আসন সমঝোতা নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক কোন খাতে এগোচ্ছে, সে দিকে নজর রাখার পাশাপাশি সীতারাম এ দিন দিল্লিতে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বামেরা গণতান্ত্রিক শক্তিগুলিকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূল উভয়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। লোকসভা ভোটে এই দুই শক্তিকে পরাজিত করতে বামেরা লড়বে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version