মাধ্যমিক পরীক্ষায় তুলনামূলক খারাপ ফল হয়েছে। বাড়ির ছেলেকে বকাবকি করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। তাতেই রাগ! মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থী বাড়ি থেকে পালিয়ে চলে গেল সোজা মুম্বাই। ঘটনা নিউ গড়িয়ার পঞ্চসায়র থানা এলাকায়। ছেলেটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।গত বৃহস্পতিবার রাজ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। পঞ্চসায়রের বুদেরহাটির এলাকার বাসিন্দা বাবাই নস্কর মাধ্যমিক পরীক্ষা সেকেন্ডে ডিভিশনে উত্তীর্ণ হয়। ছেলের ফলাফল দেখে পরিবারের লোকজন খুশি হতে পারেননি। ছেলেকে বকাবকি করেন তার মা। এমনকি, ছেলেকে হস্টেলে রেখে পড়াশোনা করানো হবে বলেও জানিয়েছিল পরিবার।

তাতেই, মানসিক চাপে পড়ে যায় বাবাই বলে পরিবার সূত্রে খবর। বিকেলে কম্পিউটার ক্লাসে যাবে বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সে। বেশ কিছুটা সময় হওয়ার পর পরিবারের লোকজন চিন্তিত হয়ে পড়েন। অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও ছেলে বাড়ি ফিরে আসছে না দেখে দুশ্চিন্তা শুরু হয়। বিপদের আশঙ্কা করে পঞ্চসায়র থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের লোকজন জানান, বেলা তিনটে নাগাদ ছেলেটি বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেও অনেক রাত পর্যন্ত সে বাড়ি ফেরেনি। এরপরেই পুলিশের দ্বারস্থ হয় তাঁরা। বাবাইয়ের ছবি নিয়ে খোঁজ শুরু করে পুলিশ। ছেলেটির কাছে কোনও মোবাইল ছিল না, সেই কারণে প্রাথমিকভাবে বাবাইকে খুঁজতে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয় পুলিশকে। গত ৪ মে ছেলেটির বাবা কমল নস্কর যখন থানায় বসেছিলেন, তখনই তাঁর কাছে একটি ফোন আসে। সেই এক ফোনেই চমকে যান ছেলেটির বাবা। ওপার থেকে জানানো হয়, মুম্বাই রেল পুলিশ থেকে ফোন করা হচ্ছে। বাবাইকে তাঁরা উদ্ধার করেছে বলে জানানো হয়।

কথা আটকে যায়, যদি কেউ বুলি আর করে? মাধ্যমিকে মেধাবীর স্বপ্নই মায়ের দুশ্চিন্তা
জানা গিয়েছে, বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা হাওড়া স্টেশনে যায় ছেলেটি। সেখান থেকে মুম্বাই মেল ধরে ছেলেটি। ট্রেনে চেপে সোজা মুম্বাই পাড়ি দেয় ছেলেটি। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা বাবাইকে ইতিউতি উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে দেখেন তাঁরা। তাঁদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে জিআরপি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বসিয়ে কথাবার্তা বলে জানতে পারেন বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছে সে। এরপরেই বাড়ির লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করে রেল পুলিশ। থানায় বসে ছেলের সঙ্গে ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে কথা হয় বাবার। এরপর ৫ মে ছেলেকে ফেরত আনতে মুম্বাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেন তাঁর বাবা। ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে পেরে খুশি পরিবারের সদস্যরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version