এই সময়, বর্ধমান: ‘ডন কা ইন্তেজ়ার’ করেছিল ‘গেয়ারাহ মুলকো কি পুলিশ’। তাকে পাকড়াও করা ছিল নাকি ‘নামুমকিন’। তবে তার শেষ পরিণতি কী হয়েছিল তা সকলেরই জানা। রিয়েল লাইফে রিলের ডন না-হলেও উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরের রঘু প্রসাদ কিছু কম যায় না। সেই ২০১২ সাল থেকে ১১ দেশের পুলিশ না-হলেও রাজ্যের অন্তত ১১টি থানার পুলিশ তার পিছনে পড়েছিল।গোটা রাজ্য জুড়ে চুরি, ছিনতাই, কেপমারি চালানো দলের এই পান্ডা বরাবরই ছিল পুলিশের নাগালের বাইরে। অবশেষে গত সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করল গলসি থানার পুলিশ। ভোট দিতে হালিশহরে গিয়ে পুলিশের জালে ধরা পড়ল রঘু, বাজারে যার আর এক নাম ‘খঞ্জ গ্যাংস্টার’।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গলসি থানা এলাকার এক কেপমারির ঘটনায় তদন্তে নেমে হদিশ মেলে রঘুর। ঘটনাটি ঘটে গত ৩ এপ্রিল। সেদিন এলাকার দু’টি রাষ্ট্রয়াত্ত ব্যাঙ্ক থেকে মোট ৫ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা তুলে মোটরবাইকে বাড়ি ফিরছিলেন গলসি বাজারের বাসিন্দা শিবনারায়ণ কেস। সে সময়ে বাড়িতে ঢোকার আগে তাঁর থেকে টাকা ভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে একটি মোটরবাইকে পালায় রঘু।

সেদিনই তার দলের লোকেরা ট্রেনে চেপে এলাকা ছাড়ে। শিবনারায়ণ গলসি থানায় অভিযোগ জানালেও টাকা ফেরতের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। ভোটের ব্যস্ততায় পুলিশ সে ভাবে তদন্ত করতে না পারলেও ভোট মিটতেই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ রঘুর মোটরবাইকটি চিহ্নিত করে। পরে সেই মোটরবাইকের নম্বর ধরে খোঁজ লাগিয়ে সন্ধান পায় রঘুর।

জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে ট্রেনে হালিশহর থেকে গলসি এসেছিল রঘু। তাই তাকে ধরতে সোমবার, ২০ মে হালিশহরে যায় পুলিশ। সেদিনই ভোট দিতে হালিশহরে গিয়েছিল রঘু। আগে থেকেই হালিশহরের কবিরাজপাড়া বটতলা এলাকায় হাজির ছিল গলসি থানার পুলিশ। হালিশহর থানার পুলিশের সাহায্য নিয়ে রঘুকে সেদিনই গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতকে মঙ্গলবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করে সাত দিনের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রঘু প্রসাদ রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন কেপমারি ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের। জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপ সিং বলেন, ‘পুলিশ ভোটের মধ্যেও এই বিষয়ে তদন্ত করেছে। ভোট মিটতেই অপরাধীকে ধরেছে। এই চক্রে আরও যারা জড়়িত ছিল তাদের ধরার পাশাপাশি টাকা উদ্ধারের জন্য সাতদিনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে রঘু প্রসাদকে।’

Manteswar Crime News: মন্তেশ্বরে BJP কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু, শুরু রাজনৈতিক তরজা

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, এলাকায় রঘুর পরিচিতি খঞ্জ গ্যাংস্টার নামে। তার সঙ্গে প্রায় ১০-১২ জন কাজ করে। ২০১২ সাল থেকে একাধিক চুরি, ছিনতাই, মাদক ও আগেয়াস্ত্র পাচার-সহ নানা অপরাধমূলক কাজের অভিযোগ রয়েছে রঘুর নামে। ২০২৩ সালের ১০ মে গলসি থানাতেই একটি চুরির ঘটনায় রঘু প্রসাদের নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।

বাঁকুড়ার কোতুলপুর থানা, বীজপুর থানা, কলকাতার বড়বাজার থানা, বাগুইআটি থানা, পোস্তা থানা, টালা থানা, ময়দান থানা, হাওড়ার সাঁকরাইল থানা সহ আউশগ্রাম, বোলপুর থানাতেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে রঘুর নামে। অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল খঞ্জ গ্যাংস্টার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version