অনুপ কুমার দাস: নদীয়ার চাপড়া ও পলাশীপাড়ায় জনতা উন্নয়ন পার্টির ব্লক কার্যালয়ের উদ্বোধন করতে গিয়ে তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিরাট কথা বলে দিলেন হুমায়ূন কবীর। মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তৈরি করছেন, নতুন পার্টি তৈরি করেছেন। পাশাপাশি, গরম গরম কথাও বলেছেন। এবার দিলেন সোজা পুলিস ও তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি।
দলের ব্লক কার্যালের উদ্বোধন করতে এসে চাপড়ায় হুমায়ূন বলেন, এখানে যারা পার্টি অফিসের জন্য ঘর ভাড়া দিয়েছেন তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এখানকার চ্যাং ব্যাঙদের কোনও ভয় পাবেন না। এই তৃণমূলটা থাকবে না ভাই, বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না ভাই। মার্চে ভোট ঘোষণা হবে। তখন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের হাতে আইন শৃঙ্খলার ভার চলে যাবে। যে কোনও ওসি যদি কোনও দুষ্কর্ম করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের চেয়ার থেকে সরাব। এটা আমাদের চ্যালেঞ্জ। তোলাবাজি চলছে। দিদি বলছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিচ্ছেন ভাতা দিচ্ছেন। আপনার টাকায় দিচ্ছেন! আপনারা সরকারে সামিল হন, আপনাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ১৫০০ টাকা ৩০০০ টাকা করে দেব। এক লাখ ২০ হাজারের আবাসনের ঘর ২ লাখ করে দেব। একবার সুয়োগ দিন। মুসলিমরা আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে। চাবিটা আমাদের হাতে থাকবে।
আরও পড়ুন-নথি চেয়ে ফোন এসেছিল BLO-র, ৪ দিন পর তৃণমূল কর্মীর টুকরো দেহাংশ মিলল বিভিন্ন জায়গায়
তৃণমূলের কথা টেনে হুমায়ূন বলেন, গত ভোটে দিদি আমাকে বললেন, ৭ মে জঙ্গিপুর ও মুর্শিদাবাদের ভোট, ১৩ মে কৃষ্ণনগর , রাণাঘাট, দুর্গাপুরের ভোট। আমার কাছে যে রিপোর্ট রয়েছে তাতে ইউসুফ পাঠান ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ভোটে ইউসুফ পাঠান হেরে যাচ্ছে, সেলিম জিতছেন, আবু তাহের খান জিতছেন। আমি বললাম আমি কী রব দিদি! আপনারা প্রার্থী করেছেন। এদের জেতানোর দায়িত্ব জেলা সভাপতির। আমার অঞ্চলে আমি ভোট করছি কিনা দেখে নেবেন। দিদি বললেন, এভাবে দায় এড়ালে হবে না। আমার বিশ্বাস, তোমার কথা মুর্শিদাবাজদের মানুষ শোনে। তুমি যে ভাবেই হোক পাঠানকে জেতাও। সেদিন ৩০ এপ্রিল উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আমার বাড়ি থেকে ২ কিলোমিটার দূরে এসে তাঁর বক্তব্যে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, এখানে এক দাঙ্গাবাজ রয়েছে। এটা উত্তর প্রদেশ যদি হতো তাহলে তাকে উল্টো করে টাঙিয়ে ঠিক করে দিতাম। আমিও প্রশাসনের কাছ থেকে পারমিশন নিয়ে রেখেছিলাম। ওই একই জায়গায় সভায় বলেছিলাম, যোগীজি এটা মুর্শিদাবাদ। আপনি বলেছেন উত্তরপ্রদেশ হলে এখানকার মুসলিমদের উল্টো করে টাঙিয়ে সোজা করে দিতাম। এর জবাব দিতে আমিও জানি।
সাংবাদিক সম্মেলনে হুমায়ূন বলেন, এই সরকারে ঘুণ ধরে গিয়েছে। চমকানি ধমকানিতে সরকার চলছে। কনট্রাক্টদের বিল আটকে দেওয়া, কারও আবাসনের বিল আটকে দেওয়ার মাধ্যমে ভয় সৃষ্টি করে সরকার চলছে। অপেক্ষা করুন। ৫ মার্চ নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করুক। তখন দেখবেন মানুষ ঝড়ের বেগে জনতা উন্নয়ন পার্টির পাশে দাঁড়াবে। ৫ মার্চের পর ধমকানি চমকানি শুনব না। এক আঙ্গুল দেখলে ২ আঙ্গুল দেখাব। পুলিশ হুমকি দিলে ট্রান্সফার করে দেব। ৬০-৪০ হারে কাজ করুন, ৯০ শতাংশ তৃণমূলের হয়ে কাজ করলে ট্রান্সফার করে দেব।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
